আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার ৪ সেপ্টেম্বর রাতেও আঘাত হানল আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছয় দিনের ব্যবধানে এটি তৃতীয় ভূমিকম্প। এরই মধ্যে প্রথম ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬৮ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫৬ মিনিটে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কুনার ও নানগারহার প্রদেশে এই কম্পনে আতঙ্কে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নতুন ভূমিকম্পে হতাহতের কোনো সরকারি প্রতিবেদন না এলেও, স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অন্তত ১৭ জন আহত হয়ে কুনার প্রাদেশিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ ) জানায়, গত রোববার ৩১ আগস্ট প্রথম ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৮ জন নিহত ও ২ হাজার ১৮০ জন আহত হয়েছেন। অন্তত ২৫টি গ্রাম থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকার জানিয়েছে, দুর্গম ও পার্বত্য এলাকা হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় বিঘ্ন ঘটছে। মঙ্গলবার ২ সেপ্টেম্বর ৫ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পের সময় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় উদ্ধার কার্যক্রম। ভূমিধসের কারণে অনেক গ্রামে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমেই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এছাড়া, ভূমিকম্পের পর নিয়মিতভাবে আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বলেন, উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও চলছে। বিভিন্ন এলাকায় তাবু স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান সরকার। জাতিসংঘ জরুরি তহবিল মুক্ত করেছে এবং যুক্তরাজ্য ১ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আফগানিস্তান ভূকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, কারণ এটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত।
২০২৩ সালে হেরাতের কাছে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার একাধিক ভূমিকম্পে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়। তার আগের বছর পূর্বাঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ১ হাজার জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায় এবং প্রায় ৩ হাজার জন আহত হয়।







