রেফারি খেলা শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই একের পর এক আক্রমণে উঠে আফগানিস্তান রক্ষণ কোণঠাসা করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। পাসিং ফুটবলে দারুণ খেলা লাল-সবুজের দল একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। দুর্বল ফিনিশিংয়ে পায়নি জালের দেখা। গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা নিয়ে হাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা ড্রেসিংরুমে ফেরে।
রোববার বিকেলে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার ম্যাচে ৪-১-২-৩ ফর্মেশনে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। আফগানরা ছিল ৪-৪-২ ফর্মেশনে।
প্রথম মিনিট থেকেই স্বাগতিকরা আক্রমণে ওঠে। ডি-বক্সে ক্রস দেন শেখ মোরসালিন। বলের গতি বেশি থাকায় রাকিব হোসেন নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারায় গোলের সুযোগ আসেনি।
সপ্তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে যায় স্বাগতিক দল। মোরসালিন অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিলেন। পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসে আফগানিস্তান গোলরক্ষক ফয়সাল আহমেদ হামিদি পা দিয়ে বল ক্লিয়ার করেন।
খানিকপর রাকিবের ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেয়া পাসের সময় মোরসালিন ঠিক স্থানে না থাকায় বল আদায়ে ব্যর্থ হন। নষ্ট হয় আরেকটি গোলের সম্ভাবনা। ১৫ মিনিটে আফগান ডিফেন্ডার স্কানদিরির ক্রসে হেড নেন শারিফি। বল পোস্টের বাইরে যায়।
প্রতিপক্ষের বক্সের বাইরে ১৭ মিনিটে ফাউলের শিকার হন সোহেল রানা। ইনডিরেক্ট ফ্রি-কিক পায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার কিক ফিরে এলেও মোরসালিনের শট আফগান ডিফেন্ডারের মাথায় লাগলে লিড পাওয়া হয়নি।
ম্যাচের ২১ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন রাকিব। বক্সে তার শট নেয়ার মুহূর্তে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার মাহাদি ব্লক করেন। বাংলাদেশ অবশ্য কর্নার পেয়েছিল। সোহেল রানা দূরপাল্লার শট নিলেও তা পোস্টের অনেক উপর দিয়ে যায়।
বাংলাদেশ গোল হজম করতে বসেছিল ২৬ মিনিটে। আহাদির নেয়া পাসে বল পাওয়া ওয়ালিজাদার শট কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন ডিফেন্ডার তারেক কাজী।
পাল্টা আক্রমণ আসে সোহেল রানার পাসে, মোরসালিন বল পেয়ে যান। কোনো ডিফেন্ডার না থাকায় অনেকটা এগিয়ে এসে আফগান গোলরক্ষক ২৯ মিনিটে সেটি ক্লিয়ার করেন।
তৌফি স্কানদারি ৩৩ মিনিটে অফসাইড পজিশনে থাকলেও লাইন্সম্যান পতাকা তোলেননি। কর্নার কিক আদায় করে নেয়ায় আপত্তি তুলেছিলেন তপু বর্মণ। কর্নারে উড়ে আসা বল ফিস্ট করেন আনিসুর রহমান জিকো। ফিরতি বলের শট গ্লাভসবন্দি করেন বাংলার বাজপাখিখ্যাত গোলরক্ষক।
ম্যাচের ৩৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বল নিয়ে ভীতি ছড়ান স্কানদারি। বিশ্বনাথ কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন। ছয় মিনিট পর অমিদ পোপালজাইয়ের দূরপাল্লার শটে জিকো পরাস্ত হলেও বল পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে পোস্টের ঠিক ডান পাশে রাকিব ফাউলের শিকার হন। যদিও জামালের সেট পিসে সুযোগ কাজে লাগেনি। দুই মিনিট পর পোপালজাইয়ের নেয়া ইনডিরেক্ট ফ্রি-কিক খেলোয়াড়দের প্রাচীরে লেগে জিকোর দস্তানায় যাওয়া মাত্র প্রথমার্ধ শেষ হয়।
বাংলাদেশ ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগ পায় ৫৫ মিনিটে। পাল্টা আক্রমণে রাকিব এগিয়ে যান। বক্সের ভেতর মোরসালিন বল নিয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও অহেতুক উড়িয়ে মেরে দর্শকদের হতাশায় ডোবান।
সাফের সেমিফাইনালে কুয়েতের বিপক্ষে দ্বিতীয় মিনিটে মোরসালিন সহজ সুযোগ নষ্ট করেছিলেন। পরে অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে ফাইনালে যেতে পারেননি জামালরা।
চোট পেয়ে ৫৮ মিনিটে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার তারেক কাজী। তিন মিনিট পর জামাল ভূঁইয়ার পরিবর্তে সাদ উদ্দিনকে মাঠে নামান ক্যাবরেরা। তারেকের বদলে নামেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।
মাঠে নেমেই পরের মিনিটে ফাহিম আক্রমণে উঠেছিলেন। অতি সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন রাকিব।
প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে হেড নিতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন মোহাম্মদ হৃদয়। আঘাত গুরুতর পাওয়ায় ৬২ মিনিটে মাঠ ছেড়ে যান। তার পরিবর্তে নামেন মজিবর রহমান জনি। ৮০ মিনিটে মোরসালিনের জায়গায় রবিউল হাসান মাঠে নামেন।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেলেও অফসাইডের ফাঁদে পড়েন রাকিব। শেষ পর্যন্ত বল জালে না জড়িয়েই দুদল মাঠ ছাড়ে। ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় একই ভেন্যুতে আবারও বাংলাদেশ-আফগানিস্তান মুখোমুখি হবে।








