ভারতে বন্ধ হয়ে গেছে আফগানিস্তানের দূতাবাস। এর আগে নভেম্বরে প্রথম তারা জানিয়েছিল, লোকসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে তাদের পক্ষে আর দূতাবাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
সংবাদ মাধ্যম ডয়েচ ভেলে জানিয়েছে, গতকাল (২৪ নভেম্বর) শুক্রবার একটি বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির আফগান দূতাবাস। এছাড়াও ব্যাখ্যা করেছে বন্ধের কারণ। বিবৃতিতে বলা হয়, দূতাবাস বন্ধ করে ভবনটি ভারত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হলো। এরপর ভারত ঠিক করবে, তারা কী চায়।
কেন দূতাবাস বন্ধ করা হচ্ছে তা নিয়ে দূতাবাসের কর্মীরা জানান, তালেবান সরকার গঠনের পরও দীর্ঘ ২ বছর ৩ মাস ভারতে দূতাবাস চালিয়েছেন পুরনো দূতাবাস কর্মীরা। আফগানিস্তান থেকে যারা পালিয়ে সেসময় ভারতে এসেছেন, দূতাবাস কর্মীরা তাদের সাহায্য করেছেন। কিন্তু বর্তমানে একটি কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট অথবা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হতে শুরু করেছে।
তাদের দাবি, ভারত সরকার আফগান দূতাবাসের পুরনো কর্মীদের ওপর আর ততটা ভরসা করছে না। তালেবান সরকারের পাঠানো নতুন কর্মীরা ভারতে আসতে শুরু করেছেন। তাদের সঙ্গে ভারতীয় প্রশাসন যোগাযোগ করতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে পুরনো কর্মীদের পক্ষে আর দূতাবাস চালানো সম্ভব নয়।
শুধু তাই নয়, গত ২ বছরে ভারতে বসবাসকারী আফগানদের একটা বড় অংশ অন্য দেশে চলে গেছে। ছাত্ররা অন্য দেশে পড়তে চলে গেছে। ফলে ভারতে অবস্থিত আফগানদের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে বলে তাদের দাবি। তাই নতুন করে তাদের সাহায্য করারও কিছু নেই। অধিকাংশ দূতাবাস কর্মীরাও অন্য দেশে চলে গেছেন। পুরনো কর্মী আর কেউ ভারতে নেই।
দূতাবাসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যখন প্রয়োজন ছিল তখন কোন দিকে না তাকিয়ে সমস্ত সংকট উপেক্ষা করে আফগান শরণার্থীদের সাহায্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন সেই সংকট ফুরিয়েছে। ফলে দূতাবাসেরও প্রয়োজন নেই। দূতাবাস চালানোর লোকবলও নেই। এবার ভারতকেই ঠিক করতে হবে দূতাবাস তারা কাদের হাতে তুলে দেবে। তালেবানের পাঠানো নতুন কর্মীদের হাতে?
সরকারিভাবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে এখনো মেনে নেয়নি ভারত। কিন্তু কূটনৈতিক তৃতীয় স্তরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে বলে কিছু মহলের দাবি। তবে গতকাল আফগান দূতাবাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দুপুর পর্যন্ত এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।








