ইরান নারী ফুটবল দলের আরও দুই সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের একজন খেলোয়াড়, অন্যজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য। এর আগে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে দলটির পাঁচ খেলোয়াড়কে আশ্রয় দিয়েছে দেশটি। সবমিলিয়ে এপর্যন্ত সাতজনকে দেয়া হল অস্ট্রেলিয়ার মানবিক ভিসা।
বুধবার সাংবাদিকদের অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, দলের একজন খেলোয়াড় এবং একজন সহায়ক স্টাফ অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়ার আগে তারা আশ্রয়ের আবেদন করেন।
বার্ক জানান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা ও দোভাষীরা ইরানি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছাড়াই খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন এবং তাদের আশ্রয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘তাদের সামনে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। আমরা নিশ্চিত করেছি যাতে কোন তাড়াহুড়া বা চাপ না থাকে।’
এর আগে এএফসি মেয়েদের এশিয়ান কাপে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ইরানের ৫ নারী ফুটবলার। যাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় অস্ট্রেলিয়া। ইরানের গণমাধ্যমে তাদের বিশ্বাসঘাতক বলা হয়েছে, এমনকি দেশে ফিরলে জীবনাশের হুমকিও ছিল। এজন্য রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনকাঠামোর জেরে তাদের নীরব প্রতিবাদ ছিল মাঠে নেমে জাতীয় সংগীত না গাওয়া। দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ শাসন ব্যবস্থার প্রতিবাদে সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন খেলোয়াড়রা, খবর বিশ্বগণমাধ্যমে।
গত ২ মার্চ সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ শুরুর আগে ইরানের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় ওই পাঁচ ফুটবলার নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। যে কারণে তারা ইরানের কট্টরপন্থীদের সমালোচনা ও তোপের মুখে পড়েন। ২০২২ সালে এশিয়ানে অভিষেক হওয়া ইরানের এটি ছিল দ্বিতীয় আসর। ‘এ’ গ্রুপ সাউথ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপিন্সের বিপক্ষে হেরে আসর থেকে ছিটকে পড়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি।








