ক্যানসার ধরা পড়েছিল অভিনেতা আবুল হায়াতের। মরণব্যাধী এ রোগের কথা জেনে যে কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কিন্তু আবুল হায়াতের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। স্ত্রী শিরিন হায়াত তাকে মানসিক সাহস যুগিয়েছিলেন। হয়তো এ কারণে ক্যানসার হয়েছে জেনেও মানসিকভাবে স্ট্রং ছিলেন কিংবদন্তী এ অভিনেতা।
শনিবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয়েছে আবুল হায়াতের আত্মজীবনী ‘রবি পথ’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ অভিনয়শিল্পী সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় চ্যানেল আই।
যেখানে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গে আবুল হায়াত জানান, ‘আজ থেকে তিন বছর আগে চিকিৎসক বললেন, আমার ক্যানসার হয়েছে। আমি জানতে পারলাম, আমি ক্যানসার রোগী। হাসপাতাল থেকে বাসা পর্যন্ত আর কথা বলতে পারিনি।’
পাশেই ছিলেন আবুল হায়াতের স্ত্রী শিরিন হায়াত। তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘এই মহিলা (শিরিন হায়াত) সারাক্ষণ আমাকে বলতে লাগল, “আরে কী হয়েছে। এটা কি কোনো ব্যাপার নাকি। আমরা আছি। চিকিৎসা করব। যেখানে যা যা লাগে, আমরা করব। তুমি ভালো হয়ে যাবে।” আমার মেয়েরা খবর পেয়েছে। তারাও বিভিন্নভাবে বলেছে, “আব্বু এটা নিয়ে চিন্তা করো না।” যাইহোক, আমার তো মন মানে না। রাতে খাবার খেয়েছি কি খাইনি, জানি না। বিছানায় শুয়ে পড়েছি। অন্ধকারে একা কাঁদছি। হঠাৎ টের পেলাম, উনি পাশে এসে শুয়েছেন। আমি তখনো নিঃশব্দে কাঁদছি। হঠাৎ ওনার একটা হাত আমার গায়ে এসে পড়ল। আমি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলাম। তখন উনি “আল্লাহ তায়ালা এই রোগটা তোমাকে কেন দিল, আমাকে দেখতে পেল না?” বলেই হাউমাউ করে কেঁদে আমাকে জড়িয়ে ধরল। সারাটা জীবন আমার সঙ্গে; আমার দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, আনন্দ সবকিছুতে সে। আজকে আমি এই যে তিনটা বছর ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছি, শুধু তার কারণে। সে আমার সবচেয়ে বড় সহযোদ্ধা, আমাকে শিখিয়েছে, আই এম আ ফাইটার।’
আবুল হায়াত যখন এসব বলছিলেন, পুরো মিলনায়তনে পিনপতন নীরবতা। কেউ চোখ মুছছিলেন। হঠাৎ মিলনায়তনের সবাই দাঁড়িয়ে গেলেন। সম্মান প্রদর্শন করলেন আবুল হায়াতকে। করতালি দিলেন। আবুল হায়াত তখন বলছিলেন, ‘আমি শেষ দিন পর্যন্ত যুদ্ধ করে যেতে চাই। আপনারা দোয়া করবেন। সাথে আমার পরিবার তো রয়েছে।
নিজের আত্মজীবনী প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, ‘জীবনে তো অনেক ঘটনা আছে। ছোটবেলা থেকে অনেক কিছু দেখেছি। সেগুলো গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছি বইতে। এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা জানেও না, এ রকম পুরোনো অনেক ঘটনা আছে। আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব সবাই উৎসাহ দিয়েছে। পরে ভাবলাম, লিখেই ফেলি।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটার একটা ভালো দিক আছে। ৮০ বছরের একটা ভ্রমণ আমার, অনেক কিছু দেখেছি, যা অনেকে হয়ত জানে না। সুতরাং আমার মতো যারা আছেন, তারাও যদি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আত্মজীবনী লেখেন, তাহলে অবশ্যই সেটা নতুন প্রজন্মের জন্য ভালো।’
গল্প-উপন্যাসের বাইরে নিজের জীবনের নানা কথা, আলাপ আর ঘটনা নিয়ে ‘রবি পথ’ বইটি সাজিয়েছেন এই অভিনেতা। প্রায় এক দশক ধরে বইয়ের কাজ চলেছে বলেও জানান।







