এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দুঃসহ গ্যাস সঙ্কটে রাজধানী ঢাকাসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে দুদর্শা নেমে এসেছে। সারাদিন অপেক্ষায়ও মিলছেনা সামান্যতম রান্নার গ্যাস। সারাদিনে যা একটু গ্যাসের দেখা মিলছে তাতে এক হাড়ি চাল চড়িয়ে দিলে ভাত হতে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সিলিন্ডারের গ্যাস বা ইলেট্রিক চুলা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন নগরবাসীরা। এতে খরচের খাতায় যুক্ত হচ্ছে বাড়তি অঙ্ক। আবার যাদের সামর্থে কুলাচ্ছে না তারা অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন: শীতকালে গ্যাসের চাপ তুলনামূলক কম থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ কম থাকবে। তবে তথ্য বলছে, সহসা গ্যাসের এই সংকট থেকে মিলছে না মুক্তি।
প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়। কিন্তু এখন সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫০ কোটি ঘনফুট।
দেশে একসময় দিনে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হতো। ২০১৮ সালের পর থেকে উৎপাদন কমতে থাকে। ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকে যায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোয় তেমন জোর দেওয়া হয়নি। ফলে উৎপাদন কমে এখন ১৯৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। গত বছরও এটি ২০০ থেকে ২১০ কোটি ঘনফুট ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন: জ্বালানি বিভাগের অবহেলা ও অদক্ষতা এর জন্য দায়ী। সর্বোচ্চ মজুত থাকার পরও কারিগরি পরিকল্পনা ও দক্ষ প্রযুক্তির অভাবে তিতাস ও কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানো যায়নি। অথচ কম মজুত থাকা বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে কয়েক গুণ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। তবে গ্যাসের এই সঙ্কট দীর্ঘ মেয়াদী হতে যাচ্ছে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর গ্রিনরোড, মহাখালী, আজিমপুর, মগবাজার, ধলপুর, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, আদাবর, কামরাঙ্গীরচর, মৌচাক, নাজিরাবাজার, নয়াটোলা, তেজগাঁও, নয়াবাজার, কল্যাণপুর, মীরবাগ, মধুবাগসহ বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে গ্যাসের তীব্র সংকটের খবর পাওয়া গেছে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা চয়ন আক্তার গ্যাস সঙ্কট প্রসঙ্গে বলছেন: দিনে গ্যাস থাকে না। আবার এলপিজি সিলিন্ডারও নাই। কী করবো, বাসার ছাদে লাকড়ি দিয়ে রান্না করছি। কয়েক সপ্তাহ ধরে একই অবস্থা চলছে। কোনো উন্নতি নেই।
একই অবস্থা মধুবাগের গৃহিনী মিনারা খাতুনের। তিনি বলছেন: গ্যাস সংকট অনেকদিনের। রান্না করতে কষ্ট হয়। আধা ঘণ্টার রান্না শেষ করতে দেড়-দুই ঘণ্টা পার হয়ে যায়। দিনে গ্যাসই থাকে না। রাতে কিছুটা আসে। তাও রান্না করার মতো অবস্থা থাকে না।
মিরপুরের তাসলিমা বেগম বলছেন: গ্যাস না থাকায় খুবই বিপদে আছি। রান্না নিয়ে আলাদা টেনশনে থাকতে হয়। কবে ঠিক হবে, কেউ জানে না।
এমন পরিস্থিতিতে খোলা বাজারে নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার জাত এলপিজি গ্যাস। সবমিলিয়ে দিশেহারা নগরবাসী।
এ প্রসঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন: চাইলেই চট করে গ্যাসের সংকট সমাধান করা যাবে না। উৎপাদন কমছে, এলএনজি আমদানির সক্ষমতাও সীমিত। আবার এলএনজির দামও বাড়তির দিকে।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়া কোন সমাধান নেই। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে অনুসন্ধান ও উৎপাদনে জোর দিয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।








