‘এমআর-৯: ডু অর ডাই’ ছবি দিয়ে শুক্রবার (২৫ আগস্ট) রুপালী পর্দায় আসছেন এবিএম সুমন, যিনি ‘মাসুদ রানা’ হিসেবে হাজির হবেন। বড় বাজেটের এই ছবির জন্য সুমন অপেক্ষা করেছেন কয়েক বছর। তার সেই মধুর অপেক্ষা শেষ হতে যাচ্ছে।
এ কারণে ছবি মুক্তির আগে এবিএম সুমন ছোটাছুটি করছেন। চলচ্চিত্রের সিনিয়দের সমর্থন ও দোয়া নিচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের প্রথম ‘মাসুদ রানা’ হিসেবে রুপালি পর্দায় আবির্ভাব হওয়া সোহেল রানার সঙ্গে দেখা করে তার কাছে দোয়া নিয়েছেন এবিএম সুমন।
চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে এবিএম সুমন বলেন, উনি (সোহেল রানা) আমাকে অনেক দোয়া করেছেন এবং বলেছেন সময় করে ‘মাসুদ রানা’ দেখবেন। তিনি তার আন্তরিকতার কমতি রাখেননি, দেখা করলে সেভাবেই আপ্যায়ন করেছেন। সোহেল ভাই আমাদের ফিল্মের ইতিহাসে প্রথম ‘মাসুদ রানা’ হয়ে থাকবেন এবং আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। অবশ্যই তার সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি। আমি তার দোয়া পেয়েছি এতে আমি ব্লেসড।
সুমন জানান, তার পছন্দের অভিনেতা ও সুপারস্টার হলেন শাকিব খান। আগে থেকে তিনি শাকিব খানে মুগ্ধ। সুমনের সঙ্গে যারা ফেসবুকে যুক্ত, তার অতীতের পোস্টগুলো ঘাঁটলে দেখতে পাবেন, তিনি শাকিব খানের সিনেমা মুক্তি পেলে কিংবা কোনো লুক প্রকাশ হলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রশংসা করতেন।
সুমন বলেন, শাকিব ভাইকে ফোন করেছিলাম। উনি ব্যস্ত থাকায় হয়তো ধরতে পারেননি। সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করে প্রিমিয়ারের দাওয়াত দিতে চেয়েছি। উনি কিছুক্ষণ পরে আমাকে শুভকামনা জানিয়েছেন রিপ্লাই দিয়েছেন। এটা আমাকে অনেক বেশি স্পর্শ করেছে। আমার চোখে, শাকিব ভাই একজন সুপারস্টার এবং আমাদের বাংলাদেশের সুপারস্টার। তার থেকে শুভকামনা পাওয়া আমার জন্য বড় ব্যাপার। কারণ তিনি যে ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার সেখানে আরেকজনের বড় বাজেটের ছবি আসছে, এই ছবির জন্য তিনি শুভকামনা দিয়েছেন, এটা আমার জন্য অনেক বেশি কিছু।
প্রয়াত কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র মাসুদ রানা, যা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বহু বই এবং প্রতিটি সিরিজই ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পায়। তারই একটি ‘ধ্বংস পাহাড়’, যা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনায় ‘এমআর-৯: ডু অর ডাই’ ছবিটি।
১৯৬৮ সালের ‘মাসুদ রানা’র চরিত্রটি আধুনিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেটি করেছেন এবিএম সুমন। তিনি বলেন, এত আনন্দ লাগছে যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। মাঝেমধ্যে ফ্রোজেন ফিল হচ্ছে। এতে হলিউড যুক্ত হওয়ায় আরও ভালো লাগছে যেখানে আমি লিড করছি। বইয়ের মাসুদ রানার যত কাছাকাছি করা যায় সেই চেষ্টা করেছি। বই লেখার সময় লেখায় সমস্যা হয় না কিন্তু ফিল্ম বানাতে গেলে অনেক ছাড় দিতে হয়।
জাজ মাল্টিমিডিয়া কর্ণধার আবদুল আজিজ বলেন, ‘মঙ্গলবার এমআর নাইনের ইংরেজি ভার্সন সেন্সর পেয়েছে। এটি দেশের সবগুলো সিনেপ্লেক্সে ২৫ আগস্ট থেকে চলবে। বাংলা ডাবিং করা অংশ যদি এ সপ্তাহে সেন্সর না পাই তবে পরের সপ্তাহ থেকে সিঙ্গেল স্ক্রিনে চলবে।’
ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত থিয়েটার তালিকা প্রকাশ করেছেন স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব। তিনি জানান, কানাডা ও আমেরিকাতে ১৫১টির মতো থিয়েটারে এটি মুক্তি পাবে। এটাই সর্বাধিক হল পেতে যাওয়া বাংলা ছবি হতে যাচ্ছে।
‘মাসুদ রানা’ পরিচালনা করেছেন আসিফ আকবর। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ৬ মাস শুধু থিয়েটারে রিলিজ। এর বাইরে ওটিটিতে রিলিজ হবে না।
ছবিতে আন্তর্জাতিক শিল্পীদের মধ্যে অভিনয় করেছেন ফ্র্যাঙ্ক গ্রিলো, বলিউড অভিনেত্রী সাক্ষী প্রধান, হলিউড অভিনেতা নিকো ফস্টার, বলিউড অভিনেতা ওমি বৈদ্য, হলিউড অভিনেতা ওলেগ প্রুডিয়াস ও আমেরিকান মডেল-অভিনেত্রী জ্যাকি সিগেল প্রমুখ। আরও আছেন শহীদুল আলম সাচ্চু, আনিসুর রহমান মিলন, জেসিয়া ইসলাম, আলিশা।








