একটি ছোট দোয়া, যার অর্থ অনেক গভীর

ছবি: সংগৃহীত
জীবনে এমন সময় আসে, যখন সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। জীবিকা, অর্থ, ভবিষ্যৎ কিংবা কোনো প্রয়োজন নিয়ে দুশ্চিন্তা তখন বাড়তে থাকে।
এমন এক পরিস্থিতিতে হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে একটি ছোট দোয়া করেছিলেন। কোরআনে সেই দোয়াটি সংরক্ষিত আছে।
দোয়াটি হলো رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: ‘রব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।’
অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, নিশ্চয়ই আমি তার মুখাপেক্ষী।’- সূরা আল-কাসাস, ২৮:২৪
কোন পরিস্থিতিতে দোয়াটি করেছিলেন মুসা (আ.)?
কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত মুসা (আ.) মিসর থেকে বের হয়ে মাদইয়ানে পৌঁছান। সেখানে তিনি দেখতে পান, একদল মানুষ তাদের পশুগুলোকে পানি পান করাচ্ছে। পাশে দুজন নারী অপেক্ষা করছেন।
মুসা (আ.) তাঁদের পশুগুলোকে পানি পান করাতে সাহায্য করেন। এরপর তিনি একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেন এবং আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা জানান।
সেখানেই তিনি বলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, নিশ্চয়ই আমি তার মুখাপেক্ষী।’
এরপরের আয়াতগুলোতে মুসা (আ.)-এর জীবনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনার কথা এসেছে। অর্থাৎ দোয়ার পর তাঁর জন্য একটি নতুন সুযোগের পথ তৈরি হয়।
দোয়াটির মধ্যে কী আছে?
এই দোয়াটির বিশেষত্ব হলো, এখানে মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে কোনো নির্দিষ্ট বস্তু দাবি করেননি। তিনি শুধু নিজের প্রয়োজন ও অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, আল্লাহ যে কল্যাণ তাঁর দিকে পাঠাবেন, তিনি তার মুখাপেক্ষী।
এখানে একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা রয়েছে সব সময় নিজের চাওয়া বিষয়টি নির্দিষ্ট করে বলার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও তাঁর ওপর নির্ভরতার কথাও প্রকাশ করা যায়।
রিজিকের জন্য কি এই দোয়া পড়া যায়?
জীবিকা, চাকরি, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার সময়ে অনেকেই এই দোয়াটি পড়েন। কারণ দোয়াটি এমন একটি পরিস্থিতিতে করা হয়েছিল, যখন মুসা (আ.) নিজেও ছিলেন একা ও প্রয়োজনের মধ্যে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি কোরআনে এই দোয়াকে নির্দিষ্টভাবে ‘রিজিক পাওয়ার আমল’ বা কোনো সমস্যার নিশ্চিত সমাধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
বরং এটি একজন নবীর দোয়া। এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করা এবং তাঁর কাছ থেকে কল্যাণ প্রত্যাশা করার শিক্ষা।
শুধু দোয়া নয়, চেষ্টাও জরুরি
ইসলামে দোয়ার পাশাপাশি চেষ্টা করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুসা (আ.)-এর ঘটনাতেও দেখা যায়, তিনি পরিস্থিতির মধ্যে নিজে উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং অন্যকে সাহায্য করেছিলেন। এরপর আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন।
তাই জীবনে কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে শুধু দোয়া করে বসে থাকা নয়; নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করাও জরুরি।
ছোট্ট দোয়ায় বড় শিক্ষা
জীবনের অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষ অনেক কিছু নিয়েই চিন্তিত হয়ে পড়ে। কিন্তু সবকিছুর সমাধান নিজের হাতে থাকে না। তখন আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা এবং তার ওপর ভরসা করা একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মুসা (আ.)-এর এই দোয়াটি তাই শুধু মুখস্থ করার একটি বাক্য নয়। এর অর্থের মধ্যেও রয়েছে বিনয় ও নির্ভরতার শিক্ষা-‘হে আমার রব, আপনি যে কল্যাণ আমার দিকে পাঠাবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।’
কখনো জীবনের দরজা কোন দিক থেকে খুলবে, তা আমরা জানি না। তবে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া এই দোয়াটি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।



