আপনি কি প্রায়ই মনে করেন যে আপনি কোথাও ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছেন না? আত্মিক স্বাধীনতা পছন্দ করেন? চারপাশের চিন্তা-ধারার বাইরে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবেন? তাহলে আপনি হতে পারেন একজন ‘অট্রোভার্ট’ বা ‘অতর্মুখী’; যা একটি নতুন আবিষ্কৃত ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্য।
বুধবার ২০ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ‘অট্রোভার্ট’ বা ‘অতর্মুখী’ বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরা অনেক সময় নিজেকে একা মনে করতে পারেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটিই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
‘অট্রোভার্ট’ শব্দটি উদ্ভাবন করেছেন মার্কিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. রামি কামিনস্কি। শব্দটির উৎস ল্যাটিন ‘অন্ট্রো’ যার অর্থ ‘অন্য’ এবং ‘ভেরট’ মানে ‘মোড়ানো’। যেখানে ‘ইনট্রোভার্ট’ নিজদিকে এবং ‘এক্সট্রোভার্ট’ বাইরের দিকে মুখ ফেরায়, অট্রোভার্টদের মুখ ফিরিয়ে থাকে অন্যদিকে—সেই দিকে, যেদিকে কেউ সাধারণত তাকায় না।
অট্রোভার্ট বা অতর্মুখী কারা?
যুক্তরাষ্ট্রের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. কামিনস্কির ভাষায়, অট্রোভার্টরা সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি বা আবেগীয় সংযুক্তির ধার ধারেন না। তিনি একে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ব্লুটুথ ফেনোমেনন’ নামে অভিহিত করেন—অর্থাৎ আশপাশের মানুষদের সঙ্গে আবেগগতভাবে একত্রিত হওয়ার সেই সহজাত ক্ষমতা তাদের থাকে না।
তবে এটিকে তিনি কোনো মানসিক রোগ হিসেবে দেখেন না, বরং বলেন, প্রত্যেক মানুষ জন্মগতভাবে অট্রোভার্ট, কিন্তু সামাজিক শর্তানুযায়ী আমরা অনেকেই সেই বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলি।
আবেগগত স্বাতন্ত্র্য
অট্রোভার্টদের মূল শক্তি তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা এবং আবেগগত স্বাতন্ত্র্য। তারা নতুন কিছু ভাবতে পারেন এবং প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারেন। ড. কামিনস্কি তার নতুন বই ‘দ্য গিফট অব নট বিলংগিং: হাউ আউটসাইডারস থ্রাইভ ইন এ ওয়ার্ল্ড অব জয়েনারস’-এ এই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন। বইটিতে তিনি বলেছেন, এটি কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এমন এক উপহার—যার মাধ্যমে মানুষ নিজের পথ নিজেই তৈরি করতে শেখে।
ইতিহাসের অট্রোভার্টরা কারা?
ড. কামিনস্কি মনে করেন, ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন অট্রোভার্ট। তাদের মধ্যে রয়েছেন চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো, লেখক ফ্রান্জ কাফকা, বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এবং লেখক জর্জ অরওয়েল। এরা সবাই ছিলেন এমন চিন্তাবিদ, যারা গোষ্ঠীগত আবেগ বা মতাদর্শিক একরূপতার বিরুদ্ধে নিজস্ব অবস্থান বজায় রেখেছিলেন।
দলের বাইরের মানুষ, কিন্তু দিশাহীন নন
অট্রোভার্টরা কোনো গোষ্ঠী বা দলে সহজে মিশতে পারেন না, আবার একাকিত্বও তাদের দুর্বল করে না। বরং এই বৈশিষ্ট্য তাদের সত্যকে অন্যভাবে দেখতে শেখায়। সামাজিক চাপ থেকে মুক্ত থেকে তারা সেইসব বিষয় দেখতে পারেন, যা দলভুক্ত মানসিকতার মানুষদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
আজকের সমাজে যেখানে দলবদ্ধতা, ট্রেন্ড আর জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন হয়, সেখানে অট্রোভার্টদের অবস্থান ভিন্ন। তবে এই ভিন্নতাই তাদের শক্তি। ড. কামিনস্কির মতে, এটি শুধু স্বাধীনতা নয়, এটি প্রতিদিনের স্বাধীনতা ঘোষণা।







