কক্সবাজার সদর উপজেলায় খুরুশকূল আশ্রয়ণ প্রকল্পে ‘অপরাধমূলক কাজে জড়িত হতে রাজী না হওয়ায়’ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি এক যুবককে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পিটিয়ে খুন করেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
শুক্রবার ৩০ জুন বিকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বেড়িবাঁধে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত হেফাজ উদ্দিন (১৮) খুরুশকূল আশ্রয়ণ প্রকল্পের গোলাপ ভবনের ৫০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মোহাম্মদ মুফিজের ছেলে।
ঘটনায় জড়িতরা সকলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিভিন্ন ভবনের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিহতের মা রেখা শারমিন বলেন, আমার ছেলে হেফাজ উদ্দিন জন্মগত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি। ছোটবেলা থেকে দুষ্টুমি করে কেউ উত্যক্ত করলে সে রেগে যেত। খুরুশকূল আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ আশাপাশের এলাকাকেন্দ্রিক ১৫-২০ জন কিশোরের সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী দল সক্রিয় রয়েছে। ওই কিশোর অপরাধীরাও তার ছেলেকে প্রায় সময় উত্যক্ত করত। পাশাপাশি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি হওয়ায় হেফাজ উদ্দিনকে দিয়ে তারা মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করত এবং মাদক সেবনেও বাধ্য করত।
হেফাজকে কিশোর অপরাধীরা প্রায় সময় নানা কটুক্তি ও অঙ্গ-ভঙ্গি দেখিয়ে উত্যক্ত করত। এ নিয়ে রাগারাগি করলে তাকে তারা শারীরিক নির্যাতন চালাত। পরে মাদক সেবন করে উশৃংখল আচরণের অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করার কথা বলত কিশোর অপরাধীরা।
ভূক্তভোগী এ নারী বলেন, শুক্রবার বিকালে তিনি বিশেষ কাজে কক্সবাজার শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এসময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাকে ফোন করে জানায়- হেফাজকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ এলাকায় ১০-১২ জন কিশোর অপরাধী ব্যাপক মারধর করেছে। এ খবর শুনে তিনি বাসার উদ্দেশ্যে ফিরেন।
বাসায় ফিরে হেফাজ উদ্দিনকে দরজা খোলা অবস্থায় মেঝেতে অজ্ঞান অবস্থায় শোয়া দেখতে পাই। এতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। এসময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা রেখা শারমিনের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা আরমান ও জামিনসহ ১০-১২ জন কিশোর অপরাধী মিলে তার ছেলেকে পিটিয়ে খুন করেছে। মূলত অপরাধমূলক কাজে জড়িত হতে রাজি না হওয়ায় সংঘবদ্ধ দূর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, স্থানীয় কিশোর অপরাধীদের একটি দল অপরাধমূলক কাজে হেফাজ উদ্দিনকে জড়িত হতে রাজি করতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার পাশাপাশি জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান ওসি।
রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।







