নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় আগুন লেগে কৃষকের ৩০০ মণ ধানসহ একটি বাংলো ঘর ও কৃষি যন্ত্রপাতিসহ ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, এতে তার ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের সুয়াইর গ্রামের কৃষক ইয়াছিন চৌধুরীর বসত ঘরের সামনে থাকা বাংলো ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাতে কৃষক ইয়াছিন চৌধুরীর বাংলো ঘরে হঠাৎ রাত আড়াইটার দিকে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি আগুন দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে ইয়াছিন চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে আগুন দেখে তিনিও চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। পরে ইমামকে বলে মসজিদের মাইকে ডাকাডাকি করার একপর্যায়ে এলাকার সবাই এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ রাত আড়াইটার দিকে পাশের বাড়ির হবি মিয়া আগুন দেখে চিৎকার করে। পরে ঘরের ভেতরে ধোঁয়া এবং ঘরের চালার ওপরে আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে ইয়াছিন চৌধুরী চিৎকার করলে সবাই ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। খুব দ্রুত আগুন ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় ঘরে থাকা ধান, কৃষি কাজে ব্যবহৃত আসবাবপত্র কিছুই বের করে আনতে পারেননি তারা। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাদের ডাক-চিৎকার শুনে এক পর্যায়ে স্থানীয় আসেপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলে। ততক্ষণে হাফবিল্ডিং, বাংলো ঘরসহ দুটি পাওয়ার টিলার, সেচকাজে ব্যবহৃত তিনটি মেশিন, প্রায় ২৬০ লিটার ডিজেল, বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জামসহ ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে।
জানা গেছে, ঘরের ভেতর ড্রামের মধ্যে ডিজেল থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, অনেক কষ্ট করে হাজার মণ ধানের খেত করেছিলাম। কিন্তু আগাম বন্যার পানিতে সেই খেত তলিয়ে যায়। পরে ডুবে যাওয়া জমি থেকে কোনোভাবে কষ্ট করে প্রায় ৩০০ মণ ধান ঘরে তুলেছিলাম। ভেবেছিলাম অন্তত এই ধানগুলো বিক্রি করে লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব। কিন্তু সেই স্বপ্নও শেষ হয়ে গেছে আগুনে। ঘরে থাকা প্রায় ৩০০ মণ ধান মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া আমার দুটি পাওয়ার টিলার, সেচকাজে ব্যবহৃত তিনটি মেশিন, প্রায় ২৬০ লিটার ডিজেল, বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জামসহ ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এখন আমি একেবারেই নিঃস্ব। বছরের পর বছর পরিশ্রম করে যা গড়েছিলাম, একদিনেই সব শেষ হয়ে গেল। সরকার এগিয়ে এলে হয়ত আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।
মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার কামরুজ্জামান সুমন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই কৃষকের ঘরসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। আমিসহ আমাদের লোকজন ওই এলাকায় যাই। ঘটনাস্থলে গাড়ি যাওয়ার রাস্তা ছিল সরু। আমরা হেঁটে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পৌঁছি। ঘরে থাকা ধান, আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, বিষয়টি স্থানীয় কেউ এখনও আমাকে জানায়নি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর ক্ষতিগ্রস্তের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।







