শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তী শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী। তার মৃত্যুতে শুধু সংগীত জগতই নয়, পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া। গুণী এই মানুষটির স্মরণে চ্যানেল আইতে রাখা হয়েছে শোক বই।
প্রখ্যাত এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই চ্যানেল আই কার্যালয়ে রাখা হয়েছে ছবিসহ তার নামে একটি শোক বই।
যেখানে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ থেকে সাধারণ ভক্ত অনুরাগীরাও। শনিবার সকাল থেকেই শোক বইয়ে বহু গুণীজনকে দেখা গেছে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে।
বিশেষ করে নজরুল সংগীতের গুলী শিল্পী ফেরদৌস আরা, গুণী শিল্পী খুরশীদ আলম, মেহরীনসহ অনেকেই মুস্তাফা জামান আব্বাসীর স্মরণে শোক বইয়ে লেখেন।
জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন মুস্তাফা জামান আব্বাসী। শুক্রবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী ছিলেন প্রখ্যাত সংগীত পরিবারের সন্তান। বাবা আব্বাসউদ্দীন আহমদ পল্লিগীতির কিংবদন্তী শিল্পী। চাচা আব্দুল করিম ছিলেন পল্লিগীতি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালির শিল্পী। বড় ভাই মোস্তফা কামাল আইনবিশারদ। মোস্তফা কামালের মেয়ে নাশিদ কামালও একজন কণ্ঠশিল্পী। বোন ফেরদৌসী রহমান দেশের প্রথিতযশা সংগীতজ্ঞ।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী ভারতের কোচবিহার জেলার বলরামপুর গ্রামে ১৯৩৬ সালের ৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ও কৈশোরকাল কলকাতায় কাটে।
তিনি ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স এবং ১৯৬০ সালে এমএ পাস করেন। সংগীতে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত হন। তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ‘কাজী নজরুল ইসলাম এবং আব্বাসউদ্দীন আহমদ গবেষণা ও শিক্ষা কেন্দ্র” এর গবেষক ছিলেন। নজরুল ইসলামকে নিয়ে তার কাজের জন্য তিনি ২০১৩ সালে নজরুল মেলায় আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।







