সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব–২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, তার স্ত্রী, ভাই, ভাগনে, শ্যালক, ম্যানেজার ও কেয়ারটেকারসহ ১৫ জনকে আসামি করে ঢাকায় পৃথক চারটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গোপালগঞ্জ দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের সহকারি পরিচালক মো. মশিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।।
তিনি বলেন, সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা–১ এ সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আহসানুর কবীর পলাশ বাদী হয়ে দুটি, সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল হায়াত বাদী হয়ে একটি ও উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলামা মিন্টু বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তার, শ্যালক শেখ মো. ইকরাম, লিকুর ভাই–গাজী মুস্তাফিজুর রহমান (দিপু), ভাগনে তানভীর আহম্মেদ, ব্যবসায়িক অংশীদার মো. লিয়াকত হোসেন সবুজ ও মো. কালু সেখ, লিকুর বাসার কেয়ারটেকার হামিম শেখ, তার ম্যানেজার মিন্টু রহমান ও মো. আরাফাত হোসেন।
এসব মামলায় লিকু ও তার সংশ্লিষ্টরা ১৪৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৩ হাজার ১০ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেন। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ১২ হাজার ৯৬ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা যায়, গোপালগঞ্জের থানাপাড়ায় বাড়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব লিকুকে প্রধান আসামি করে দুটি মামলা করা হয়েছে। একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে ৫৫ লাখ ৩২ হাজার ৮৮০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অপর মামলায় তার বিরুদ্ধে ৩৩টি ব্যাংক হিসাবে ১৪৪ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। লিকুসহ এই মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে আরো জানা যায়, স্ত্রী রহিমা আক্তার তার ৯টি ব্যাংক হিসাবে ১২ কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৪৬ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেন। একইভাবে শেখ মো. ইকরাম ব্যক্তিগত ও যৌথ নামে পরিচালিত ৩টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ২১ কোটি ৫ লাখ ৭৩ হাজার ২৯৭ টাকা, গাজী মুস্তাফিজুর রহমান (দিপু) ব্যক্তিগত ও যৌথ নামে পরিচালিত ৪টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ১৯ কোটি ৪৬ লাখ ১১ হাজার ৯৬৩ টাকা, তানভীর আহম্মেদ ১৯ কোটি ৮৮ রাখ ৭৯ হাজার ৩৫৪ টাকা, মো. লিয়াকত হোসেন (সবুজ) ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ২৬৩ টাকা, আসামি মো. কালু শেখ ব্যক্তিগত ও যৌথ নামে পরিচালিত ৩টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ৫৬ কোটি ৫২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪৯ ও লিকুর কেয়ারটেকার হামিম শেখ ৪টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৩০ লাখ ৭৫ হাজার ২৭৭ টাকা লেনদেন করেন।
এ ছাড়া, গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৩ কোটি ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৮ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় লিকুকেও আসামি করা হয়েছে।
লিকুর শ্যালক শেখ মো. ইকরামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চতুর্থ মামলায় তাকেও (লিকু) আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় ইকরামের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪৮ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদের প্রত্যকের নামে বেনামে গোপালগঞ্জ জেলার নানা জায়গাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।








