জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে দুইজন প্রযুক্তি-সহায়িত জেন্ডার সহিংসতার শিকার হন, আর বাংলাদেশে এই হার ৮৯ শতাংশ-যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (টেকনোলজি-ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স—টিএফজিবিভি) প্রতিরোধে পিরোজপুরে একটি আইনি পরামর্শ সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) ও পিরোজপুর গণউন্নয়ন সমিতি (পিজিইউএস)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, নারী-নেতৃত্বাধীন এনজিও প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পরামর্শ সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল জেলা পর্যায়ে আইনি সহায়তা কাঠামোর সঙ্গে টিএফজিবিভি বিষয়কে একীভূত করা, সরকারি ও বেসরকারি আইনি সহায়তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা, ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে আইনজীবীদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলার লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ মো. রিয়াদ হাসান। তিনি বলেন, প্রযুক্তি-সহায়িত জেন্ডার সহিংসতার প্রাথমিক শিকার হিসেবে নারী ও নারী শিক্ষার্থীরাই বেশি ভোগান্তির শিকার হন। একই সঙ্গে পুরুষরাও এই সহিংসতার শিকার হতে পারেন উল্লেখ করে তিনি নীতিনির্ধারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিতে এবং ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে উৎসাহিত করেন তিনি।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পিরোজপুর গণউন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান। তিনি টিএফজিবিভির বিস্তৃতি, আইনি প্রতিক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা, তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পিরোজপুরের স্থানীয় বাস্তবতা ও করণীয় বিষয়ে নীতিগত সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান প্রযুক্তি-সহায়িত জেন্ডার সহিংসতার ধরন, নেতিবাচক প্রভাব ও প্রতিরোধ কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি ডিজিটাল ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভায় ১৬ জন মনোনীত বক্তা বক্তব্য দেন। আলোচনায় সাইবার আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া, সাইবার আইন সম্পর্কে সচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ তদন্ত সহজীকরণ এবং ভুক্তভোগীদের দালিলিক প্রমাণ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারের উদ্যোগ ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ হেল্পলাইন (০১৩২০০০০৮৮৮) ও ইমেইল ([email protected]) সম্পর্কে অবহিত করেন এবং এসব সেবা ব্যবহারে নারীদের উৎসাহিত করেন।
এ পরামর্শ সভা ‘স্ট্রেনথেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি-ফেসিলিটেটেড জেন্ডার-বেইসড ভায়োলেন্স অ্যান্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়, যা নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির অংশ। প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ এবং অর্থায়ন করছে সুইজারল্যান্ড ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা।
আয়োজকরা জানান, এই পরামর্শ সভা টিএফজিবিভি মোকাবেলায় জেলা পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে এবং একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








