বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের উজ্জ্বল নক্ষত্র রোজী আফসারী। যার নাম উচ্চারণ করলেই ভেসে ওঠে এক বিস্তৃত অভিনয়জীবন, দাপুটে উপস্থিতি আর অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর ৮০তম জন্মদিন।
কবরী, শাবানা, ববিতাদের সময়েই সমান তালে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন রোজী আফসারী। চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় সাড়ে তিনশ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে— আলোর মিছিল, জাগো হুয়া সাবেরা, জীবন থেকে নেয়া, তিতাস একটি নদীর নাম, লাঠিয়াল, অশিক্ষিত, প্রতিকারসহ আরও বহু সিনেমা।
নায়িকা থেকে শুরু করে মা, বড় ভাবী, সংগ্রামী নারী কিংবা প্রভাবশালী চরিত্র; সব ক্ষেত্রেই ছিল তার সাবলীল উপস্থিতি। বিশেষ করে আশির দশকের পর মায়ের চরিত্রে তার অভিনয় তাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যায়।
১৯৪৬ সালের ২৩ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণ করেন রোজী আফসারী। পারিবারিক নাম ছিল শামীমা আক্তার রোজী। ১৯৬২ সালে আব্দুল জব্বার খানের ‘জোয়ার এলো’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। তবে প্রকৃত জনপ্রিয়তা পান নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘আলোর মিছিল’ দিয়ে।

শুধু বাংলা চলচ্চিত্রই নয়, পাকিস্তানি উর্দু চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও নির্মাণেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে ‘আশা নিরাশা’ চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন।
অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন রোজী আফসারী। ১৯৭৫ সালে ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫০টির মতো পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
প্রথম জীবনে চিত্রগ্রাহক এম. আব্দুস সামাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মাতা মালেক আফসারীর সঙ্গে সংসার শুরু করেন। বয়সের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জানা যায়, তাদের সম্পর্ক ছিল গভীর ভালোবাসায় পূর্ণ।

মালেক আফসারী আজও তার স্মৃতিতে আবেগাপ্লুত হন। স্ত্রীর জন্ম কিংবা মৃত্যুদিনে তিনি প্রায়ই স্মৃতিচারণ করেন, যেখানে ফুটে ওঠে ভালোবাসা, বেদনা আর হারানোর গভীর অনুভূতি।
দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগে ২০০৭ সালের ৯ মার্চ মাত্র ৫৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। তবে তিনি নেই, এ কথা যেন পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ তার অভিনয়, তার চরিত্র, তার উপস্থিতি এখনো বেঁচে আছে দর্শকের হৃদয়ে, চলচ্চিত্রের প্রতিটি ফ্রেমে।








