আইসিসির ‘হল অব ফেমে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। সঙ্গে আছেন বিশ্বকাপজয়ী ওপেনার ম্যাথু হেইডেন ও সাউথ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। আরও চার ক্রিকেটারকে যুক্ত করা হয়েছে হল অব ফেমে। তারা- ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, হাশিম আমলা, সানা মির এবং সারাহ টেলর।
তাদের মধ্যে সানা মীর আলাদা করে ইতিহাস গড়েছেন। পাকিস্তানের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি হল অব ফেমে জায়গা করে নিয়েছেন। ২০০৫ সালে অভিষেকের পর পাকিস্তানের হয়ে ১২০টি ওয়ানডেতে এবং ১০৬টি টি-টুয়েন্টি খেলেছেন। ৭২টি ওয়ানডে এবং ৬৫টি টি-টুয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি।
২০১০ ও ২০১৪ সালে এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের স্বর্ণপদক জয়ে অধিনায়ক ছিলেন সানা। নিয়েছেন ১৫১ উইকেট। ২০১৮ সালে ওয়ানডে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছিলেন।
আইসিসির অব ফেমে আগে থেকেই ছিলেন ভারতের ১০ ক্রিকেটার। নতুন করে কিংবদন্তি ধোনি যুক্ত হয়ে বলেছেন, ‘হল অব ফেম সুযোগ পেয়ে আমি আপ্লুত। গোটাবিশ্বে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্রিকেটাররা যে অবদান রাখে, তার স্বীকৃতি জানানো হয় এই সম্মানের মাধ্যমে। সর্বকালের সেরাদের পাশে নিজের নাম দেখতে পাওয়া অসাধারণ অনুভূতি। সারাজীবন এই সম্মান মনে রাখবো।’
২০০৪ সালে ভারতের হয়ে অভিষেক হয় ধোনির। তিন বছর পর টি-টুয়েন্টি দলের নেতৃত্ব পান। এরপর টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেটে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ, একদিনের বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন নেতৃত্বে। ভারতকে দুবার এশিয়া কাপ জিতিয়েছেন। একদিনের ফরম্যাটে দুবার আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও পেয়েছেন। ভারতের হয়ে ৩৫০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ধোনি রান করেছেন ১০,৭৭৩। ৯০টি টেস্ট খেলে করেছেন ৪,৮৭৬ রান।
হেইডেন ছিলেন সময়ের অন্যতম ভয়ঙ্কর ওপেনার। ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনটি সেঞ্চুরি ছিল তার। ২০০৩ বিশ্বকাপজয়ী অজি দলের সদস্য তিনি।
সাউথ আফ্রিকা থেকে এবারের হল অব ফেমে এসেছেন হাশিম আমলা এবং গ্রায়েম স্মিথ। প্রথম প্রোটিয়া ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন আমলা। সব ফরম্যাট মিলিয়ে তিনি ৫৫টির বেশি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেছেন। গ্রায়েম স্মিথ বিশ্বরেকর্ড ১০৯টি টেস্টে প্রোটিয়াদের নেতৃত্ব দেন, যার মধ্যে ৫৩টি জয় পেয়েছেন। তিনি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ১০০টিরও বেশি টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছেন। দেশটির হয়ে ১৫০টি ওয়ানডেতেও অধিনায়ক ছিলেন গ্রায়েম স্মিথ, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ভেট্টোরি টেস্টে ৪০০০ রান এবং ৩০০ উইকেট নেয়া তিনজন ক্রিকেটারের একজন। তিনি নিউজিল্যান্ডকে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রানার্সআপ করেন।
সারাহ টেইলর ছিলেন ইংল্যান্ড নারী দলের ২০০৯ সালের ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নেপথ্য কারিগর। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ফাইনালে ৪৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। অসাধারণ উইকেটকিপিংয়ের জন্য খ্যাত টেইলর সব ফরম্যাটে মিলিয়ে ২৩২টি ডিসমিসাল করেছেন।






