নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিশুদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত শৈশব নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নারীদের স্বনির্ভর করে তোলা এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের জন্য প্রথম পর্যায়ে ২০টি এবং পরবর্তী পর্যায়ে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নারীদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ‘অতি দরিদ্র ও অসহায় নারী সহায়তা কর্মসূচি’ (ভিজিডব্লিউবি) এর আওতায় বর্তমানে ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে শিশুদের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং সামগ্রিক বিকাশে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।নারী ও শিশু উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারের মতে, নারীর ক্ষমতায়ন দেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নারী ও শিশুদের কল্যাণ, সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কর্মসূচিগুলো আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হবে।
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা) চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি সচল রাখতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।