হলিউডে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। তাকে বলা হয়, পৃথিবীর বৃহৎ সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির বর্ণময় এবং চিন্তাশীল অভিনেতা। তিনি জর্জ ক্লুনি। শুধু ব্লকবাস্টার বা বড় বাজেটের ছবির জন্যই চিত্রনাট্য বেছে নেন না, বরং এমন চরিত্রে অভিনয় করতে পছন্দ করেন যার ভেতরে গভীরতা আছে, এবং যেসব ছবির একটি স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ মে) হলিউডের দাপুটে এই অভিনেতার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তার অভিনীত এমন পাঁচটি চলচ্চিত্রের কথা ভক্ত অনুরাগীদের আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়া যায়, যেগুলোতে প্রিয় অভিনেতার অভিনয় দক্ষতা ও সিনেমা নির্বাচনের সূক্ষ্মতার কথা ফুটে উঠে-
আউট অব সাইট (১৯৯৮)
এই সিনেমাটিই জর্জ ক্লুনির চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে বড় মোড় এনে দেয়। তিনি এই সিনেমায় এক চৌকস ব্যাংক ডাকাতের চরিত্রে অভিনয় করেন। জীবন জটিলতার এক পর্যায়ে যার পরিচয় হয় এক কঠোর ফেডারেল মার্শালের (জেনিফার লোপেজ) সঙ্গে। ক্লুনি ও লোপেজের মধ্যে চমৎকার রসায়ন রয়েছে, আর পরিচালক স্টিভেন সোডারবার্গ সিনেমায় দুর্দান্ত ছন্দ ও শৈলী এনেছেন। এই ছবির জন্য ক্লুনি অন্যভাবে তার দর্শকদের মোহিত করতে সমর্থ হন।
মাইকেল ক্লেটন (২০০৭)
‘আউট অব সাইট’-এ ক্লুনি যতোটা চার্মফুল, মাইকেল ক্লেটনে–এ তিনি ততোটাই সংযত। এখানে তিনি একটি বড় আইনি প্রতিষ্ঠানের ‘ফিক্সার’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যিনি সব বিপদে ঠান্ডা মাথায় সামাল দেন। কিন্তু এক জটিল মামলায় তার চারপাশে সবকিছু ভেঙে পড়তে শুরু করে। এটি ধীরগতির কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত একটি সিনেমা। ক্লুনি খুব সূক্ষ্মভাবে এই সিনেমায় আবেগ ফুটিয়ে তুলেছেন—কোনো নাটকীয়তা নয়, বরং ভেতর থেকে আসা চাপ ও দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে তার মুখাবয়বে ফুটে ওঠে। এটি এক নিঃশব্দ কিন্তু গভীরভাবে প্রভাবশালী পারফরম্যান্স!
আপ ইন দ্য এয়ার (২০০৯)
সিনেমাটি সবসময়ই প্রাসঙ্গিক। ক্লুনি এখানে রায়ান বিংহ্যাম চরিত্রে—একজন কর্পোরেট ‘ডাউনসাইজার’ যিনি সারাক্ষণ দেশজুড়ে ঘুরে বেড়িয়ে লোকজনকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করেন। তিনি সংযোগ এড়িয়ে জীবন কাটাতে চান, কিন্তু এক সময় তার নিজস্ব দর্শন ভেঙে পড়ে। এই চরিত্রে ক্লুনি ভেতরের একাকিত্বকে এমনভাবে প্রকাশ করেন যা কখনো অতিনাটকীয় লাগে না। ক্লুনির অভিনয় এই গল্পকে জীবন্ত করে তোলে।
দ্য ডিসেন্ডান্টস (২০১১)
অ্যালেক্সান্ডার পেইনের পরিচালনায় তৈরি এই ট্র্যাজিকমেডি সিনেমায় ক্লুনি অভিনয় করেন ম্যাথিউ “ম্যাট” কিং চরিত্রে। যার স্ত্রী কোমায় চলে যায় এবং সে জানতে পারে, অন্য কারো সঙ্গে তার স্ত্রীর অতীত সম্পর্কের খবর। সিনেমায় ক্লুনি তার সবচেয়ে মানবিক দিকটি ফুটিয়ে তোলেন। নিখুঁত পিতা নয়, বরং ভুল করা একজন মানুষ যে সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। তার ও শেইলিন উডলি-র (মেয়ের চরিত্রে) দৃশ্যগুলো খুবই বাস্তব ও হৃদয়ছোঁয়া।
গুড নাইট, এন্ড গুড লাক (২০০৫)
এই সিনেমায় ক্লুনি প্রধান চরিত্রে না থাকলেও, তিনি এটি পরিচালনা, সহ-লিখন এবং পার্শ্বঅভিনেতা হিসেবে অভিনয় করেন। ১৯৫০-এর দশকে মার্কিন সাংবাদিক এডওয়ার্ড আর. মারো–র গল্প এটি, যিনি সেনেটর ম্যাকার্থির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। এটি একটি সাহসী ও প্রায় নিঁখুত সিনেমা, যেখানে ক্লুনির পরিচালনার দক্ষতা স্পষ্ট। –কইমই







