মিয়ানমারে কারাভোগ শেষে রোববার দেশে ফিরছেন ৪৫ বাংলাদেশি নাগরিক। এদের নিয়ে আসা হবে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজযোগে। আর ফেরত যাবে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের বিজিপি ও সেনা বাহিনীর ১৩৪ সদস্য।
শনিবার (৮ জুন) বিকেল ৫টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমারের উইংয়ের মহাপরিচালক মিয়া মো. মাঈনুল কবির এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএমএস চিন ডুইন রোববার ভোরে মিয়ানমার থেকে ৪৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শনিবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিতওয়ে থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছে। কারাভোগ শেষে ৪৫ বাংলাদেশিকে নিয়ে আসা জাহাজটি আবার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে পালিয়ে আসা ১৩৪ জন বিজিপি ও সেনা সদস্যকে নিয়ে ফেরত যাবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় মিয়ানমারের বাহিনীর হাতে আটক ৪৫ জন বাংলাদেশী কারাভোগ শেষে দেশে ফিরছেন। এদের মধ্যে কক্সবাজার, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা রয়েছে বলে জানানো হয়।
মিয়ানমারের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের কারণে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ যেতে বাধ্য হওয়া মিয়ানমার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের নৌজাহাজ ইউএমএস চিন ডুইন বাংলাদেশে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সিত্তওয়েতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অবিচল প্রচেষ্টার ফলে, আরও একটি বাংলাদেশি দলকে তাদের পরিবারের কাছে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
এর আগে গত ২৫ এপ্রিল মিয়ানমার থেকে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেন ১৭৩ জন বাংলাদেশী। একই সঙ্গে ওইদিন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ২৮৮ জন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ও সেনা সদস্যকে ফেরত পাঠায় বাংলাদেশ। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৩৩০ জন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি, সেনা ও কাস্টমস কর্মকর্তাকে স্বদেশে ফেরত পাঠায় বাংলাদেশ।
এর পর গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত কয়েক দফায় আরও ১৩৪ জন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ও সেনা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। গত ১২ মে কক্সবাজার সফরে আসা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসাদের মধ্যে কয়েকজন লে. কর্নেল ও দু’জন মেজরও রয়েছেন। যারা বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। তারা রোববার ফেরত যাবেন।







