জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ফিচকারঘাট এলাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙে আদিবাসীদের বিবাদমান জমি দখল চেষ্টার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ও তার ক্যাডার বাহিনীর হামলার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার ৪ সাংবাদিক।
পরে স্থানীয় জনগণ ও সংবাদকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শনিবার (১৬ মার্চ) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ সমাচারের পাঁচবিবি উপজেলা প্রতিনিধি জুয়েল শেখ বাদি হয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন মাছরাঙা টিভির জেলা সংবাদদাতা আল মামুন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের জেলা প্রতিনিধি জুয়েল শেখ, দৈনিক বাংলার দূতের জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক ও দৈনিক সংবাদ সারাবেলার পাচঁবিবি প্রতিনিধি বাবুল হোসেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ফিচকাঘাট এলাকার পিরপাল গ্রামের দরিদ্র আদিবাসী কৈলাশ মাহাতো ও একই গ্রামের রায়হান চৌধুরী নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিবাদ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে মামলা হলে আদালত ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করে এবং বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পত্তিতে কোন পক্ষই প্রবেশ করতে পারবেন না বলে আদালত আদেশ দেন। ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শনিবার বিকেলে রায়হান চৌধুরীর পক্ষ নিয়ে বিবাদমান সম্পত্তিটি জবর দখল করতে মহিপুর হাজী মহসিন সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল এস্কেভেটর ভেকু মেশিন দিয়ে জমি থেকে মাটি উত্তোলন শুরু করেন। আদিবাসীদের এমন অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যান ওই সাংবাদিকরা। সেসময় ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল ও তার ক্যাডার বাহিনী অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং লাঠিসোঠা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করে। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকরা তাদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের পাঁচবিবি উপজেলা প্রতিনিধি জুয়েল শেখ বাদী হয়ে শনিবার রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতা-সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে হত্যা মামলা-সহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মহিপুর হাজী মহসিন সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি ও আরটিভি প্রতিনিধি রাশেদুজ্জামান রাশেদ এবং পাঁচবিবি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুহুল আমিন। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন সাংবাদিক নেতারা।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান জানান, ইতোমধ্যে মামলা নেয়া হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








