ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের দু’বছর হয়েছে গতকাল শনিবার। ইউক্রেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এদিন কিয়েভ সফর করেছেন ইটালি, কানাডা ও বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট।
শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ অভিযানের মুখে বিপর্যস্ত ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এই ৪ বিশ্বনেতা।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রাশিয়া। দেশটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও প্রথমদিকে ইউক্রেনীয়দের ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়ে রুশ বাহিনী। ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে তারা। বর্তমানে ইউক্রেনের ৫ ভাগের এক ভাগ এলাকা রুশ বাহিনীর দখলে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দু’বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফর করেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রো ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। কিয়েভের হোস্তোমেল বিমানবন্দরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে হোস্তোমেল বিমানবন্দরকে রাশিয়ার পরাজয় ও ইউক্রেনের গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন জর্জিয়া মেলোনি। জাস্টিন ট্রুডো বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিশ্চিত ছিলেন, তিনি এই বিমানবন্দর সহজে দখল করতে পারবেন। এখন দেখা যাচ্ছে তিনি ভুল ভেবেছিলেন।
উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানান, কিয়েভ এখনও শিরদাঁড়া শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যোদ্ধারা শেষনিশ্বাস ও বন্দুকের শেষ গুলি থাকা পর্যন্ত লড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের দু’বছর শেষে ইউক্রেন বিজয়ের দিকে এগিয়েছে। ইউক্রেনীয়দের উদ্দেশে তিনি জানান, লড়াই চালিয়ে গেলে ইউক্রেন নিশ্চিতভাবে জিতবে।
বর্তমানে বিদেশি সহায়তার সল্পতা, অস্ত্রের ঘাটতি ও রাশিয়ার অগ্রগতিসহ নানা সমস্যার মুখে রয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এরই মধ্যে নিয়মিত তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটির ওদেসা, নিপ্রোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়া ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।








