ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের পুলিশ টাউন এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও দুটি বাসের সংঘর্ষে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে। দুর্ঘটনার খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, লাশ দাফনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে খাটিয়া ও কবরস্থান। তবে বিকেল পর্যন্ত লাশ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ভাবনদত্ত এলাকায় না পৌঁছায় লাশের অপেক্ষায় শোকে কাতর স্বজনরা।
স্বজনরা জানান, ভাবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএইচ ফারুক সিদ্দকীসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যের লাশের অপেক্ষায় তারা। বাড়ির আঙিনায় রাখা হয়েছে চারটি খাটিয়া, প্রস্তত করা হয়েছে পরপর তিনটি কবর।
প্রিয় স্বজনদের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্বজনরা। এ দিকে পিতা-মাতা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানে না নিহত ফারুক সিদ্দকীর মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছোট ছেলে ফাহিম সিদ্দিকী।
একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলকায়। লাশের অপেক্ষায় স্বজন ও প্রতিবেশিরা।
জানা যায়, তিন বছর যাবৎ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ফারুক সিদ্দিকীর বড় ছেলে মহায়মিন সিদ্দিকী ফুয়াদ। তাই মাঝে মাঝেই রক্ত দিতে হতো। বুধবার রাতে ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাত ১২টার পর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ২টার দিকে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় দুটি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের পর আগুন লেগে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ভাবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএইচ ফারুক সিদ্দিকী, তার স্ত্রী মহসিনা খন্দকার, ছেলে মহায়মিন সিদ্দিকী ফুয়াদ ও স্ত্রীর বড় বোন সীমা খন্দকার নিহত হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে লাশ পৌঁছালে ভাবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নামাজে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।








