ভারতের তামিলনাড়ুতে বিষাক্ত মদপানে ৩৭ জনের মৃত্যু্র ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন কমপক্ষে ৬০ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, রাজ্যের রাজধানী চেন্নাই থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে তামিলনাডুর কাল্লাকুরিচি জেলায় এই ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে অনেকেই করুণাপুরম এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বিষাক্ত মদপানের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে তারা ঠিক কী খেয়েছিল তা আমরা তদন্ত করছি। আমরা তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছি। একটি বিবৃতিতে রাজ্য সরকার বলেছে, ফরেনসিক তদন্তে বিষাক্ত মিথানলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
নিহত একজনের মা জানিয়েছেন, হঠাৎ তার ছেলের পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান যে, তার ছেলে মদপান করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের উচিত সমস্ত মদের দোকান বন্ধ করে দেয়া।আরেকজন মা বলেন, আমার ছেলের পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। সে তখন কিছু দেখতে বা শুনতে পারছিল না। এটা কারও সঙ্গে হওয়া উচিত নয়। মদ বিক্রি বন্ধ করে দেয়া উচিত।
এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই কড়া পদক্ষেপ নেয় তামিলনাডু সরকার। কাল্লাকুরচির জেলা প্রশাসককে বদলি করে দেওয়ার পাশাপাশি জেলার পুলিশ সুপারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়াও একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করেছে সরকার। দুর্ঘটনার পর অবৈধ মদের দোকানে অভিযান চালিয়ে কয়েকশো লিটার মদ ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন। তিনি বলেছেন, বিষাক্ত মদ খেয়ে মানুষের মৃত্যুর খবর শুনে আমি মর্মাহত এবং দুঃখিত। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আটক করা হয়েছে। প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অপরাধকে কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। শক্ত হাতে তা দমন করা হবে।







