পাহাড়ি ঢল এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি লঘুচাপ ও ভারি বৃষ্টিপাতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা, ধলাই, মনু, খোয়াই, পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরী ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফেনী, হালদা নদীগুলোর পানি বেড়ে দেশের ১০ জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যায় সারাদেশে ৮ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। এসব অঞ্চলের প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট পর্যন্ত ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব জেলার ৬৫ উপজেলা ও ৪৯৫টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
নিহতদের মধ্যে কুমিল্লায় চারজন, কক্সবাজারে দু’জন, ফেনীতে একজন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।বন্যাদুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণ করছে জেলা প্রশাসন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবি এবং কোস্টগার্ড।
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও প্রবল বর্ষণে কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, মুহুরী, ফেনী ও হালদা নদীর পানি বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে প্রবল স্রোতে ভেঙে যায় কুমিল্লার বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতীর বাঁধ। বাঁধ ভাঙার কারণে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের এলাকা ।
ফেনীতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। আশ্রয় ও খাদ্য সংকটে রয়েছে হাজারো মানুষ। বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষের খোঁজে স্বজনদের ভিড় বাড়ছে।








