চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জাবিতে ভর্তির মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে জালিয়াতির ৪ শিক্ষার্থী অাটক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সম্পৃক্ত থাকায় পৃথক চারটি ইউনিটে মেধা তালিকায় সুযোগপ্রাপ্ত চার পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আটককৃত চার শিক্ষার্থী হলেন মাহবুব হোসেন(৩য়), ইমাম হোসেন(৩য়), অমিত হাসান(১১তম) এবং আশিকুল হাসান রবিন(১৬তম)।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের মৌখিক সাক্ষাৎকার চলাকালে তাদেরকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে সন্ধ্যায় তাদেরকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের (ই ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় মাহবুব হোসেন (রোল: ৫৩০৯৪২) ৩য় স্থান লাভ করে। সে ভর্তির ব্যাপারে জালিয়াতি চক্রের সদস্য সনদ মাহমুদের সঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকার চুক্তি করে। সে বগুড়া আর্মপুলিশ ব্যাটলিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। আইন ও বিচার অনুষদের (এফ ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় ইমাম হোসেন রাহাত (রোল: ৬৩৭৩৪৪) ৩য় স্থান লাভ করে। সে ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার হাফেজ আব্দুল মান্নানের ছেলে। ভর্তি পরীক্ষায় ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে রাহাত নামে এক শিক্ষার্থীর সাথে চুক্তি করে। সে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে।

ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি’র (এইচ ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় অমিত হাসান (রোল: ৮১২৬৮৬) ১১ তম স্থান লাভ করে। সে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের হারেছ মিয়ার ছেলে। সে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়ার জন্য সনেট নামে এক শিক্ষার্থীর সাথে ছয় লাখ টাকার চুক্তি করে। আইন ও বিচার অনুষদের (এফ ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় আশিকুল হাসান রবিন ১৬তম স্থান লাভ করে। সে কুষ্টিয়া জেলার সদর থানার আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তার হাতের লেখার সাথে পরীক্ষার কাগজের লেখার মিল না পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তাদেরকে সংশ্লিষ্ট অনুষদগুলোর ডীন অফিসে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হলে ওই চার পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রের স্বাক্ষর ও হাতের লেখার সাথে আজকের হাতের লেখা যাচাই করলে গরমিল দেখা যায়। এমনকি উত্তরপত্রে লেখা মোবাইল নাম্বারও কেউ বলতে পারেননি। এতে শিক্ষকদের সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রক্সি সহায়তা নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা তিনজন স্বীকার করলেও আশিকুল হাসান রবিন জালিয়াতির কথা অস্বীকার করেন।

জালিয়াতির কথা অস্বীকার করে রবিন বলেন, ‘আমি কোন জালিয়াতি করি নাই। আমাকে এখন পরীক্ষা দিতে দিলে আমি পরীক্ষা দিব। আমি নার্ভাস থাকার কারণে ঠিক মতো লিখতে পারিনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী, পরীক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তরপত্রে বাংলা ও ইংরেজিতে দুটি পৃথক বাক্য লিখতে হয়। কোন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সাক্ষাৎকারের সময় উত্তরপত্রের হাতের লেখা যাচাই-বাছাই করেন শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘তার লেখার মিল না পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে সেও অপরাধী। তাই তাকে আশুলিয়া থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ বাকি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ আটককৃত অপর তিনজনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা মুচলেকায় ভর্তি জালিয়াতির কথা স্বীকার করে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী তাদেরকে আটক করা হয়েছে। থানায় নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Bellow Post-Green View