রোহিঙ্গা সমস্যা আন্তর্জাতিক এবং সমাধানের দায়িত্বও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই নিতে হবে বলে মনে করেন সেভ দ্য চিলড্রেন’র প্রধান নির্বাহী হেলে থর্নিং স্মিথ।
কক্সবাজার থেকে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফিরে সংবাদ সম্মেলনে ডেনমার্কের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চোখ ফেরানো চলবে না।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারে ২৫ আগস্ট’র পর নিজেদের ঘর ছেড়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ছয় লাখের কাছাকাছি। আগে আসা রোহিঙ্গা মিলিয়ে সেই সংখ্যা এখন দশ লাখের বেশি। সেভ দ্য চিলড্রেনের হিসেবে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের প্রায় অর্ধেকই শিশু যাদের অনেকেই অনাথ। কক্সবাজারে জড়ো হওয়া অসহায় রোহিঙ্গা শিশুদের খোঁজ খবর নেওয়ার পর ঢাকায় এসে সেভ দ্য চিলড্রেন’র প্রধান নির্বাহী জানালেন, এরই মধ্যে ৫০ হাজার শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে।
মানুষের সৃষ্টি এই বিপর্যয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোয় ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষায় সহযোগিতা করতে বাংলাদেশকে পাশে চাইলেন হেলে থর্নিং-স্মিথ।
হেলে থর্নিং-স্মিথ বলেন, রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করে বাংলাদেশ যে মানবতা দেখিয়েছে তাতে তাদের গর্বিত হওয়া উচিত। কিন্তু এও ঠিক তাদের একার পক্ষে এ সমস্যা সমাধান অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর দায়িত্ব নিতে হবে; বাংলাদেশের পাশে থাকতে হবে। কেননা, এটা আন্তর্জাতিক সমস্যা এবং এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্বও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন- জাতিসংঘ, নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলোচনার মধ্যে থাকতে হবে। এই দশ লাখের বেশি মানুষকে ভুলে গেলে চলবে না। অন্তত যতদিন পর্যন্ত এর একটা স্থায়ী সমাধান হয়। যতদিন তারা নিজেদের বাড়ি ফিরে সম্মানের সঙ্গে বসবাসের অধিকার না পায়। মোট কথা, এখান থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখ ফেরিয়ে নেওয়া চলবে না।
রোহিঙ্গাদের জরুরী চিকিৎসা দিতে আপাতত ৯টি অস্থায়ী ক্লিনিক চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে ডেনমার্কের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা করছেন, নজরে না রাখলে রোহিঙ্গা শিশুরা পাচারের শিকার হতে পারে।
বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:







