ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য কিংবা এধরনের পণ্য আমদানির অভিযোগে বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে (ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) মামলা করেছে ২৫টি অঙ্গরাজ্য।
সোমবার (৩ আগস্ট) দায়ের করা এই মামলার তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়েস, ম্যাসাচুসেটস, ওয়াশিংটন, উইসকনসিন, পেনসিলভেনিয়া ও কেন্টাকিসহ ২৫টি অঙ্গরাজ্য। এসব অঙ্গরাজ্যের বেশিরভাগেই ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারত, কানাডা, চীন, জাপান, নরওয়ে, তাইওয়ানসহ ৫৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য তৈরি বা আমদানির অভিযোগ তোলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্ট অব ১৯৭৪ এর ৩০১ ধারার আওতায় এসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়।
মামলার পর নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, যেসব দেশ ও অঞ্চলের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, সেখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসা প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ আমদানি পণ্য আসে। সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে মার্কিন পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রেসিডেন্টকে একক সিদ্ধান্তে যেকোনো দেশের ওপর ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আইনসম্মত ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সব বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা মার্কিন শ্রমিক ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ বিদেশি দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন এবং ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা এক্ষেত্রে একটি আইনগতভাবে কার্যকর হাতিয়ার।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই নীতির আওতায় ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ), ১৯৭৭ এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন ট্যারিফ’ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের নীতি গ্রহণ করা হয়।







