মালদ্বীপে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকার পরিচালিত অভিযানের আওতায় এবার নতুন করে ১০২ জন বিদেশীর উপর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের তল্লাশি চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী মালের দুটি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগ এক্স (সাবেক টুইটার)–এ জানায়, রাজধানী মালের হ্যাম্ভেরু ও ম্যাপান রোডের অভিযান চালিয়ে মোট ২৫ জন বিদেশিকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
১০২ জন বিদেশির নথি পরীক্ষা, ২৫ জন আটক কেউই বৈধ নিবন্ধনের আওতায় নেই বা তাঁদের নথিপত্রের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে সরকার তাদের আটক করে অভিবাসন হেফাজতে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মালদ্বীপ সরকার জানিয়েছে, তারা এই মেয়াদের (প্রথম তিন বছর) মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে থাকা সমস্ত অবৈধ অভিবাসীদের সমস্যা সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
“অপারেশন কোলাঙ্গি গত বছরের ২ মে চালু হয় এবং এখন পর্যন্ত একাধিক এলাকায় সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।সরকার অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহ, বৈধ-অবৈধদের তালিকা করা এবং প্রয়োজনে দেশে ফেরার সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।
অভিযানে আটক হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা হয়তো প্রাথমিকভাবে বৈধভাবে মালদ্বীপে প্রবেশ করলেও, কাজ হারানো, কোম্পানির বৈধতা বাতিল, বা কাগজপত্রের জটিলতায় বর্তমানে অবৈধ অবস্থায় পরিণত হয়েছেন।
মালদ্বীপ প্রবাসী সাংবাদিক আলামিন বলেন আমাদের অনেকে আইন মানতে হয়, কিন্তু মালিকদের অনিয়ম বা দুর্ব্যবহার, পাসপোর্ট আটকে রাখা, অথবা নিয়মিত ভিসা নবায়নের ব্যয়ভার তাদের পক্ষে বহন না করার কারনে এমন সমস্যা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের জন্য দরকার মানবিক বিবেচনায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা, যাতে তারা আইনি জটিলতা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারেন বা আবার বৈধতা ফিরে পান।
প্রবাসীদের দাবি হাইকমিশনার পক্ষথেকে, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা।আইনি সহায়তা প্রদান।মালদ্বীপ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবিক সমাধানে কাজ করা
মালদ্বীপে এই বিশেষ “অপারেশন অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোয় আনার একটি পদক্ষেপ হলেও, এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে দরিদ্র ও প্রান্তিক অভিবাসী শ্রমিকদের উপর। এই সংকট কেবল আইন দিয়ে নয়, মানবিকতা, কূটনীতি ও সহানুভূতির মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত।







