গত ১৬ ডিসেম্বরে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদ আবু সাঈদকে নিয়ে কটুক্তি করে বক্তব্য দেয়ার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী।
এ সময় মানববন্ধন থেকে কানে শোনে না ডিসি, স্বৈরাচারের পিসি, আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধসহ নানা স্লোগান দেয়া হয়।
আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২ টায় ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন থেকে মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়াকে ২৪ ঘন্টার ভিতরে গ্রেপ্তার ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়া বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, আবু সাঈদে ছবি না দিয়ে যদি শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি দিত তাইলে আমাদের কোন আপত্তি ছিল না। আবু সাঈদ শহিদ হয়েছে, কার সাথে যুদ্ধ করে শহিদ হয়েছে? কোন দেশের সাথে তারা যুদ্ধ করছে? যারা (২৪ এর) আন্দোলন করছে সংগ্রাম করছে। দেশটাকে এক হাত থেকে আরেক হাতে পরিবর্তন করছে। তারা এখন আমাদের শাসন করবে আমরা তাদের শাসন মেনে নেব আমাদের কোন আপত্তি এই জিনিসটা ক্লিয়ারিফিকেশনের জন্য মান্যবর জেলা প্রশাসকের কাছে আমার জিজ্ঞাসা যে, আবু সাঈদের ছবি কিভাবে আইছে। বিজয় দিবসের দিনে রাস্তা-ঘাটে সব জায়গাতে পদর্শিত হচ্ছে। এই বলেই আমার বক্তব্য শেষ করছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
এমনকি যারা ১৮ জুলাই জেলা শহরের কালীবাড়ি মোড়ের বিজয় চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছিলেন তাদেরও মঞ্চে দেখা গেছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানে আওয়ামী ঘরানার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক দুই কমান্ডার এবি ছিদ্দিক ও ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়া ছাড়াও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার মাহবুব আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মিজানুর রহমান খান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান ভূঞা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়া তার বক্তব্য শেষ করার সময় ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। এসময় মঞ্চে থাকা জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানসহ কেউ কোনো প্রতিবাদ বা আপত্তি করেননি।
মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ শাখার অন্যতম সমন্বয়ক ইকরাম হোসেন, অভি চৌধুরী, শেখ মুদ্দাসসির তুশি, শহিদ তরিকুল ইসলাম রুবেলের বড় ভাই জুয়েল আহমেদ, আফসানা আক্তার মীম।
মানববন্ধন থেকে সমন্বয়ক ইকরাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়া শহিদ আবু সাঈদকে নিয়ে যেভাবে কটুক্তি করেছে বক্তব্য দিয়েছে তাকে ২৪ ঘণ্টার ভিতরে গ্রেপ্তার করতে হবে। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান কোন প্রতিবাদ না করায় তাকে অভিনন্দন কিশোরগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় কিশোরগঞ্জের ছাত্র সমাজকে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মানববন্ধনে অভি চৌধুরী বলেন, এখনও প্রশাসনে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের প্রেতাত্মা রয়ে গেছে। অবিলম্বে তাদেরকে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। যে শহিদ আবু সাঈদ আমাদের ২৪ এর আন্দোলনের প্রেরণা তাকে কুটুক্তি করে এখনও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। গত ১৮ জুলাই জেলা শহরের কালীবাড়ি মোড়ের বিজয় চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে যারা মানববন্ধন করেছিলেন তাদেকে ডিসি দাওয়াত দিয়ে মঞ্চে বসিয়েন। আবু শহিদ সাঈদকে নিয়ে কটুক্তি করে বক্তব্য দেওয়ার পরেও ডিসি কোনো প্রতিবাদ করেনি। এমনকি তিনি মঞ্চে থেকেও তিনি নাকি শুনেননি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানের বক্তব্য জানার জন্য তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।








