পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামতেই গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের প্রায় ২১ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহন আটকে পড়ে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
বুধবার বিকেল থেকেই গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করলে শ্রমজীবী মানুষ দলে দলে বাড়ির পথে রওনা দেন। এতে সড়কে হঠাৎ করেই যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক মানুষ সড়কে নেমে পড়েন। উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় টার্মিনালে প্রবেশে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে চন্দ্রা, খাড়াজোড়া থেকে কোনাবাড়ী উড়ালসড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে আরও ৬ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির হয়ে আছে যানবাহন।
যাত্রী আল মাহাদী জানান, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই যাত্রা শুরু করলেও এক ঘণ্টায় মাত্র এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পেরেছেন। তার শঙ্কা, ৬ ঘণ্টার পথ শেষ করতে দ্বিগুণ সময় লাগতে পারে।
একইভাবে পরিবহন চালক মাহতাবুর রহমান বলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরই যানজট বেড়ে যায়। তার অভিযোগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে যানজট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
চন্দ্রা টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, যানজটের কারণে গাড়ি না পেয়ে বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ সুযোগে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
যানজট পরিস্থিতি নিয়ে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু হাইওয়ে পুলিশ সদস্য জানান, বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব তাদের নয়।
এদিকে চন্দ্রা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের আশপাশে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও সড়কে তেমন কোনো কার্যকর তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।








