এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
২০২৫ সাল এখনো পর্যন্ত রেকর্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণতম বছর হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপের জলবায়ু পর্যবেক্ষক সংস্থা কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস।
সংস্থাটির সর্বশেষ সতর্কতায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর জলবায়ু দ্রুতই এক বিপর্যয়কর অবস্থার দিকে যাচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১.৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এতে প্রায় নিশ্চিত ২০২৫ সাল রেকর্ডের দ্বিতীয় বা তৃতীয় উষ্ণতম বছরে পরিণত হবে।
এর আগে গত বছর সর্বোচ্চ উষ্ণ রেকর্ড হয়, আর ২০২৩ ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণতম বছর।
সংস্থাটির জলবায়ু কৌশল বিভাগের প্রধান সামান্থা বার্জেস বলেন, এই মাইলফলকগুলো কোন বিমূর্ত বিষয় নয়। এগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ত্বরান্বিত গতি দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে তাপমাত্রা বাড়া ঠেকাতে দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো ছাড়া কোন পথ নেই।
জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাব বাড়ছে
এ বছর ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যতিক্রমী আবহাওয়া দেখা গেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাম্প্রতিক উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ে ১,৮০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অক্টোবর মাসে সতর্ক করে বলেন, ১.৫ ডিগ্রি সীমা “অবশ্যম্ভাবীভাবে অতিক্রম” হবে। তাই দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা সম্প্রদায়গুলোকে সুরক্ষিত করতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
বৈশ্বিক ঐক্যে ভাঙন
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক ঐক্যও দুর্বল হয়ে পড়ছে। গত মাসে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ ৩০ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধের বিষয়ে কোন সম্মতিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
নরওয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট রিসার্চের বিজ্ঞানী বিয়র্ন এইচ সামসেট বলেন, নিকট ভবিষ্যতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমার কোন সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, আমাদের শুধু বর্তমান জলবায়ুর সাথে নয়, আগামী দশকের আরও উষ্ণ জলবায়ুর সাথেও খাপ খাইয়ে নিতে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে।







