সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ১০ ডিসেম্বর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুইডিশ রাজপরিবারের সদস্য, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং এক হাজারের বেশি আমন্ত্রিত অতিথি। একই সঙ্গে স্মরণ করা হয় নোবেলপ্রধান আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী ১০ ডিসেম্বর।
এবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ. ডেভোরে এবং জন এম. মার্টিনিস। ইলেকট্রিক সার্কিটে ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম টানেলিং ও শক্তির কোয়ান্টাইজেশন আবিষ্কারের মাধ্যমে তারা কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বলে জানায় নোবেল কমিটি।
রসায়নে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সাসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম. ইয়াঘি। তাদের উদ্ভাবিত মেটাল-অরগানিক ফ্রেমওয়ার্কস বা এমওএফ এখন গ্যাস সংরক্ষণ, ক্যাটালাইসিস এবং পরিবেশবিষয়ক প্রযুক্তিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন মেরি ই. ব্রানকো, ফ্রেড রাম্সডেল এবং শিমন সাকাগুচি। পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স নিয়ে তাদের আবিষ্কার আধুনিক ইমিউনোলজিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে এবং অটোইমিউন রোগের নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির দ্বার উন্মোচন করেছে।
সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাশনাহোরকাই। ইউরোপীয় সাহিত্যে তার স্বকীয় লেখনী ও প্রভাবকে মূল্যায়ন করেই এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এছাড়া, অর্থনীতিতে স্ভেরিয়েস রিক্সব্যাঙ্ক পুরস্কার পেয়েছেন জোয়েল মকির, ফিলিপ আগিওঁ এবং পিটার হাওইট। উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক তত্ত্বে তাদের গবেষণা দীর্ঘদিন ধরে নীতিনির্ধারণ ও একাডেমিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন নোবেল কমিটি। আর ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার রাজনীতিক মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তিনি ভেনিজুয়েলার গণতন্ত্র আন্দোলনের নেতা।
এ বছর প্রতিটি নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের সমান।
শতবর্ষী ঐতিহ্য ও মর্যাদার এই নোবেল আয়োজন আবারও বিশ্বসেরা মেধা ও গবেষণাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং মনে করিয়ে দিয়েছে—মানব অগ্রগতির পথচলায় আলফ্রেড নোবেলের অবদান কতটা গভীর।








