ব্যাটিং ব্যর্থতার জেরে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বড় স্কোর পায়নি শ্রীলঙ্কা। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার দৃঢ়তায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দুইশ রানের গণ্ডি পেরোয়। স্বল্প পুঁজি নিয়েও বোলিং নৈপুণ্যে ২১ রানের জয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে দাসুন শানাকার দল।
শুক্রবার বুলাওয়েতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানরা ৪৭.৪ ওভারে ২১৩ রানে অলআউট হয়। জবাবে ডাচরা ৪০ ওভারে ১৯২ রানেই গুটিয়ে যায়।
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র সুপার সিক্সে যাওয়া দলগুলোর বিপক্ষে গ্রুপপর্বে পাওয়া পয়েন্টগুলো সুপার-পর্বে গণনায় ধরা হচ্ছে। গ্রুপ ‘বি’তে থাকা শ্রীলঙ্কা তাদের সঙ্গে সুপার সিক্সে ওঠা ওমান এবং স্কটল্যান্ডের সঙ্গে জেতায় ৪ পয়েন্ট পকেটে পুরেছিল। ডাচদের হারিয়ে সুপার সিক্সে টেবিলের শীর্ষে ওঠা শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট এখন ৬। সমান ৬ পয়েন্ট পেলেও রানরেটে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে আছে জিম্বাবুয়ে।
‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সুপার ওভারে হারানোয় ২ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্সে ওঠে নেদারল্যান্ডস। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার কাছে হারায় তারা টেবিলের চারেই থাকল। রানরেটে এগিয়ে থাকায় টেবিলের তিনের স্কটল্যান্ড। পয়েন্ট না পেলেও রানরেটের বিচারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পঞ্চম এবং ওমান ষষ্ঠ স্থানে আছে।
ম্যাচের প্রথম ওভারে রানের খাতা না খোলা শ্রীলঙ্কা প্রথম উইকেট হারায়। লোগান ফন বিকের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাথুম নিশাঙ্কা। দ্রুতই কুশল মেন্ডিস, সাদিরা সামারাবিক্রমা ও চারিথা আসালাঙ্কা সাজঘরে ফিরলে লঙ্কানরা ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে।
দলীয় একশো রান তোলার আগে শ্রীলঙ্কার আরও দুই উইকেটের পতন হয়। ৩৩ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন দিমুথ করুনারত্নে। অধিনায়ক শানাকা ৫ রান করে সাকিব জুলফিকারের বলে এলবিডব্লিউ হন।
ভানিডু হাসারাঙ্গাকে নিয়ে প্রথম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ধনঞ্জয়া। সপ্তম উইকেটে দুজনে ৩৫ রান যোগ করেন। বাস ডে লেডের বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়ার আগে হাসারাঙ্গা ২০ রান করেন।
এরপর মাহেশ থিকশানার সঙ্গে ধনঞ্জয়া অষ্টম উইকেটে ৭৭ রানের মহামূল্যবান জুটি গড়েন। ডে লেডের বলে আউট হওয়ার আগে ২৮ রান করেন থিকশানা।
সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে মাইলফলক ছুঁতে পারেননি ধনঞ্জয়া। ১১১ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৯৩ রান করে আরিয়ানের বলে ডে লেডের তালুবন্দি হন। শেষ ব্যাটার হিসেবে লাহিরু কুমারা আউট হলে ২১৩ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
নেদারল্যান্ডসের পক্ষে ফন বিক ও আরিয়ান নেন ৩টি করে উইকেট। জুলফিকার দুটি উইকেট নেন।
জবাবে ১১ রানে দুই ওপেনার বিক্রমাজিৎ ও ম্যাক্স ও’ডাউডকে হারালেও আত্মবিশ্বাসী ব্যাট করতে থাকে নেদারল্যান্ডস। প্রথম ১০ ওভারে বোর্ডে জমা করে ৫৫ রান। ওয়েসলি বারেসি ও ডে লেডে তৃতীয় উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়ে জয়ের আশা দেখিয়েছিলেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা বারেসি পান ফিফটি। ৫০ বলের ৬ চার ও এক ছক্কায় ৫২ রানের ইনিংস খেলে হন রানআউট। ভাঙে দারুণ এক জুটি।
পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ডাচরা চাপে পড়ে। ২ উইকেটে ৮৮ থেকে একপর্যায়ে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৩৩ রান। পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে ৪১ রান করে থিকশানার বলে বোল্ড হন ডে লেডে। দলীয় ১৫১ রানে।
অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস গড়েন প্রতিরোধ। সঙ্গী হিসেবে জুটে যান রায়ান ক্লেইন। নবম উইকেটে ২৫ রানের জুটি ডাচদের ফুরোতে বসা আশা ফের জাগিয়েছিল। হাসারাঙ্গার বলে ক্লেইন বোল্ড হলে জুটি ভাঙে।
৬৮ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৬৭ রানে অপরাজিত থাকা এডওয়ার্ডস একপ্রান্তে চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শানাকার বলে শেষ ব্যাটার হিসেবে ৭ রান করা আরিয়ান বোল্ড হলে খেলা থামে।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে থিকশানা নেন ৩ উইকেট। হাসারাঙ্গা দুই উইকেট নেন।








