বৃহত্তর সিলেটের মণিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘মহারাস লীলা’ বা ‘রাস উৎসব’। প্রতি বছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় রাস উৎসব। এই উৎসব শুধু মৌলভীবাজারের মণিপুরীদের জন্যই নয় বাংলাদেশের অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
জানা যায়, ১৭৭৯ সালে মণিপুরের মহারাজা ভাগ্যচন্দ্র স্বপ্ন দেখে নৃত্যগীতে যে প্রার্থনার শুরু করেছিলেন, সেটাই রাস উৎসব। ভাগ্যচন্দ্রের পরবর্তী রাজাদের বেশির ভাগই ছিলেন নৃত্যগীতে পারদর্শী এবং তারা নিজেরাও রাসনৃত্যে অংশ নিতেন। সেই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উদ্যাপিত হয়ে আসছে রাস উৎসব। বর্নাঢ্য আয়োজন, মৃদঙ্গ, করতাল ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলা ও শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন ঘিরে এই দিনটি সকলের উৎসব হয়ে ওঠে।
মণিপুরি নৃত্যকলা ভারতীয় উপমহাদেশের নৃত্যকলায় একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও নৃত্যশিক্ষক কমলগঞ্জের নীলেশ্বর মুখার্জীকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে প্রবর্তন করেছিলেন মণিপুরি নৃত্যশিক্ষা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘উৎসব একলার নহে। মিলনের মধ্যেই সত্যের প্রকাশ, সেই মিলনের মধ্যেই সত্যকে অনুভব করা উৎসবের সম্পূর্ণতা। একলার মধ্যে যাহা ধ্যানযোগে বুঝিবার চেষ্টা করি, নিখিলের মধ্যে তাহাই প্রত্যক্ষ করিলে তবেই আমাদের উপলব্ধি সম্পূর্ণ হয়।’
কার্তিক মাসের পূর্ণিমাতিথিতে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মণিপুরিদের প্রধান ধর্মীয় মহোৎসব শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলার আয়োজন করা হয়। কমলগঞ্জের মণিপুরি মহারাসলীলায় রাতভর শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা পরিবেশনের মাধ্যমে দর্শকদের বিমোহিত করে রাখেন শিল্পীরা। আকাশে যখন উঁকি দেয় সূর্যের আলো, তখন শেষ হয় উৎসবের।
এবারও মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে মাধবপুর জোড়ামন্ডপ এবং আদমপুর মন্ডপে ঐতিহ্যবাহী মহারাসলীলায় নানা মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে।
মহারাসলীলা আয়োজকদের পক্ষে, রাসলীলা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, আগামী ১৫ নভেম্বর, দামোদর মাসখ্যাত কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মণিপুরিদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব রাসপূর্ণিমা বা মহারাসলীলা অনুষ্ঠিত হবে। ১৮২ তম এই উৎসব প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে।
এই রাস উৎসবে সারাদেশের আগ্রহী মানুষ চলে আসে কমলগঞ্জে। তারা মিলে যায় এক আনন্দলোকে।







