গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া এক ফিলিস্তিনি নবজাতক অনাহারে মারা গেছে বলে জানা গেছে।
রোববার (২০ জুলাই) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গাজায় হামলা অব্যাহত রাখার মধ্যেই গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (১৯ জুলাই) ভোর থেকে গাজা জুড়ে কমপক্ষে ১১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৮ জন মার্কিন সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণ কেন্দ্র থেকে খাবার খুঁজতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এদিকে, গাজায় ক্ষুধায় এক ফিলিস্তিনি নবজাতক শিশুরও মৃত্যু হয়েছে। এখনও ইসরায়েল গাজায় সাহায্য সরবরাহের উপর অবরোধ জারি করে রেখেছে । পাশাপাশি গাজাবাসী যারা সাহায্য কেন্দ্রগুলোতে খাবার খুঁজতে যাচ্ছেন তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালমিয়া জানিয়েছেন, এই হাসপাতালের ৩৫ দিন বয়সি একটি শিশু অপুষ্টিতে মারা গেছে। শনিবার হাসপাতালে অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা যাওয়া দুজনের মধ্যে এই শিশু একজন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে অসংখ্য অনাহারী ও অপুষ্টিতে ভুগছে এমন রোগী ভর্তি আছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, গাজার ১৭ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে এবং অন্যরা রাফার উত্তর-পশ্চিমে আরেকটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে মারা গেছেন। তিনি এই প্রাণহানির জন্য “ইসরায়েলি গুলিবর্ষণ” কে দায়ী করেছেন।
হামাস জানিয়েছে, গাজায় থাকা বাকি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তা ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আরও জানায়, যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
ইসরায়েলের গাজা অভিযানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৮ হাজার ৭৬৫ জন নিহত এবং ১ লাখ ৪০ হজার ৪৮৫ জন আহত হয়েছেন।








