১২ থেকে ১৩ আগস্ট রাতজুড়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আকাশপ্রেমীরা এই উজ্জ্বল ‘উল্কাবৃষ্টি’ উপভোগ করতে পারবেন। কারণ এই বছর অন্যতম দর্শনীয় মহাজাগতিক আয়োজন-‘পারসেইড উল্কাবৃষ্টি’ পৌঁছাতে চলেছে তার চরম অবস্থায়।
আজ ১১ আগস্ট সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, এবছর ‘পারসেইড উল্কাবৃষ্টি’ ঘটার সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতি ঘন্টায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কাপিণ্ড আকাশ থেকে ঝরতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে উজ্জ্বল রেখা এবং আগুনের গোলার মত উল্কা।
পারসেইড উল্কাবৃষ্টি কী এবং কোথা থেকে আসে?
বিবিসি জানিয়েছে, পারসেইড উল্কাবৃষ্টি ঘটে পৃথিবী যখন ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণা ও আবর্জনার রেখার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। এই ধূলিকণা ঘণ্টায় প্রায় ২১৩ হাজার কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে—তখনই সৃষ্টি হয় উজ্জ্বল উল্কার। যাকে আমরা ‘শুটিং স্টার’ বা ‘তারাখসা’ বলে জানি। এই উল্কাবৃষ্টি প্রতি বছর আগস্ট মাসে ঘটে এবং প্রাচীন চীনা নথিপত্রে প্রায় দুই হাজার বছর আগেও পারসেইড উল্কাবৃষ্টির উল্লেখ পাওয়া গেছে।
কখন এবং কীভাবে দেখা যাবে?
- পিক সময়: ১২ আগস্ট রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত
- সর্বোত্তম সময়: রাত ১২টার পর থেকে ভোরের আগে, যখন আকাশ সবচেয়ে অন্ধকার থাকে
- উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা: ৯ আগস্ট ছিল স্টারজেন পূর্ণিমা, যার উজ্জ্বল আলো এখনও আকাশে থাকবে। এতে অপেক্ষাকৃত ম্লান উল্কাগুলি দেখায় সমস্যা হতে পারে।
তবে, রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচের বিজ্ঞানী ফিন বুরিজ জানিয়েছেন, পূর্ণিমা সত্ত্বেও প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১–২টি উজ্জ্বল ফায়ারবল দেখা যেতে পারে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
বাংলাদেশ থেকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা
উত্তর এবং দক্ষিণ, দুই গোলার্ধ থেকেই দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি। তবে দক্ষিণ গোলার্ধে আরও একটু ভাল করে দেখা যাবে এই অসাধারণ দৃশ্য। বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। তাই বাংলাদেশের সব জায়গা থেকে ওই নির্দিষ্ট সময় আকাশে এই উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকলে একটু সমস্যা হতে পারে। বিজ্ঞানীদের অভিমত, দূষণমুক্ত কোনও অন্ধকার জায়গা থেকে দক্ষিণ আকাশে তাকালে এই উল্কাবৃষ্টি ভালভাবে দেখা যাবে।

ভালোভাবে উল্কাবৃষ্টি দেখার টিপস
- উন্মুক্ত আকাশ দেখার মতো জায়গায় যান, যেখানে গাছপালা বা ভবন দৃষ্টিকে বাধা দেবে না
- পেছনে হেলান দিয়ে শুয়ে আকাশের দিকে তাকান—উল্কা যেকোনো দিক থেকে আসতে পারে
- শহরের আলো দূরের জায়গা বেছে নিন—আলো দূষণ কম হলে স্পষ্ট দেখা যাবে
- ধৈর্য ধরুন—কমপক্ষে ২০ মিনিট অন্ধকারে থাকার পর চোখ মানিয়ে নেয় এবং তখন উল্কা দেখা সহজ হয়
- নিরাপত্তার জন্য পানি, মোবাইল ফোন, ও অন্যদের জানিয়ে বের হোন
বিকল্প তারিখেও দেখা যাবে উল্কাপাত
পূর্ণিমার আলো এড়াতে কেউ চাইলে ১৬–২৬ আগস্ট পর্যন্ত রাতেও চেষ্টা করতে পারেন। যদিও তখন উল্কাপাতের হার কিছুটা কম হবে, তবে অন্ধকার আকাশে সেগুলি স্পষ্ট দেখা যাবে।
ফিন বুরিজ বলেন, ১৬ ও ১৭ আগস্টের সপ্তাহান্তে চাঁদের আলো অপেক্ষাকৃত কম থাকবে, তাই উল্কাবৃষ্টি উপভোগের জন্য সেটিও ভালো সময় হতে পারে।








