নয় মাসে বিদেশি ঋণের সুদ বাবদ ১ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে: ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ প্রান্তিকে (নয় মাসে) এ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১৭ শতাংশ বেশি।
এর ফলে বাজেটে নির্ধারিত অর্থের ৯৪ শতাংশই তিন মাস বাকি থাকতেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে চলতি বছর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ অর্থে টান পড়তে যাচ্ছে। কেননা, এ খাতে সরকারের বরাদ্দ রয়েছে ১.১ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।
গত বছরের একই সময়ে ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার সুদ পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ।একই সময়ে মূল ঋণ পরিশোধ বার্ষিক ২২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৪ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ প্রান্তিকে ঋণ পরিশোধ ৪৯ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ডলারের বাড়তি দামের কারণে টাকার অঙ্কেও ঋণ পরিশোধ অনেক বেড়ে গেছে। ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই-মার্চ সময়ে সুদ ও আসল মিলিয়ে ২৮ হাজার ২৮১ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ হয়েছে। গতবার একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। আগের বছরের চেয়ে এ খাতে খরচ ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।
মূলত বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য সরকারের ঋণের সঙ্গে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক উৎসে অর্থায়ন করা ঢাকা মেট্রোরেল, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
অন্যদিকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ সুদ পরিশোধ বাবদ ৯৩৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে, যা এক বছর আগে পরিশোধ করা ৪৯১ মিলিয়ন ডলারের প্রায় দ্বিগুণ।








