তুরস্কে ৯৯ জন জেনারেল এবং এডমিরাল পদমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত থাকার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে এরদোগান সরকার।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ৩’শ ৫৬ সদস্যের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশকে দায়ী করলেন ‘ভাইরাস’ দমনের ঘোষণা দেয়া এরদোগান।
প্রায় ৬ লাখ সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যের শক্তিশালী দূর্গে সিনিয়র পদমর্যাদার অভ্যুত্থানপন্থি কর্মকর্তারা অনেক বেশি গভীরে ঢুকে গেছেন বলে এরদোগান সরকার দাবি করেছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজধানী আঙ্কারায় ব্যর্থ ‘ক্যু’ পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে মন্ত্রিসভার বৈঠক করছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
মঙ্গলবার প্রকাশিত খবর অনুযায়ী অভ্যুত্থান পরিকল্পনায় জড়িত হিসেবে ২৭৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড দেন তুরস্কের এক আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের ৮৫ জনেরও বেশি জেনারেল এবং অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার। অন্যান্য সূত্রমতে সংখ্যাটি ৮৫ নয়, ১’শ২৫।
সামরিক বাহিনীর বহু উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এখনো গ্রেফতার হচ্ছেন। এদের মধ্যে বিমানবাহিনীতে এরদোগানের উপদেষ্টা লে. কর্নেল এরকান ক্রিভাক এবং সেকেন্ড আর্মির অধিনায়ক জেনারেল আদেম হুদুতি অন্যতম।
জেনারেল হুদুতি গ্রেফতার হওয়া সেনা অধিনায়কদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম। তার অধীনে থাকা সেকেন্ড আর্মি তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়ছে। তাদেরকে আপাতত নিজ নিজ শিবিরেই থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইস্তাম্বুলে থার্ড কর্পস-এর মূল ঘাঁটির গেটগুলোর সামনে আবর্জনার ট্রাক আর ভারী যানবাহন দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। মূল অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা ও সমর্থনের দায়ে প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব আলী ইয়াজিকিসহ এরদোগানের কাছের বেশ কয়েকজন আটক হয়েছেন।
শুধু সামরিক বাহিনীতেই তথাকথিত ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালিয়ে ক্ষান্ত হচ্ছে না এরদোগান প্রশাসন। বরং গ্রেফতার, নজরদারী এবং বরখাস্ত চলছে তুরস্কের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে।
এরই মধ্যে তুর্কি শিক্ষকদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ক্যু’র সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে বিপর্যস্ত সরকার।
এরদোগানের ‘ভাইরাস’ দমন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী দেশটির প্রায় ৫০ হাজার ব্যক্তিকে বরখাস্ত করা হয়েছে, চলছে গ্রেফতার, নজরদারী। এদের মধ্যে প্রায় ২১ হাজারই শিক্ষক।
শুক্রবারের ক্যু’র পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যাওয়া তুর্কি নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের আদর্শপন্থী অভিযোগে দেড় হাজারেও বেশি ডিন এবং ১৫ হাজারেও বেশি শিক্ষা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে এরদোগান সরকার।
গুলেন সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেয়ার পর নতুন এই ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটলো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানান, ‘এই সন্ত্রাসবাদী সংস্থা কোন দেশেরই কার্যকরী সহায়ক হিসেবে থাকতে পারবে না। আমরা তাদের শিকড়সহ উপড়ে ফেলবো, যাতে কোন গুপ্ত সন্ত্রাসী সংস্থা আমাদের জনগণের সাথে প্রতারণা করার সাহস না পায়’।








