ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালানো স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া বা সিমি’র ৮ সদস্যের সঙ্ঘর্ষ–মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি উভয়েই পুরো ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিতর্ক আরো উস্কে দিয়েছে কিছু ভিডিও। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভির অনলাইনের এক প্রতিবেদনের ভিডিওতে এক পুলিশ সদস্যকে একজন জঙ্গিকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনো যাচ্ছে, ‘সে জীবিত তাকে গুলি করো।’ আরেক কথপোকথনে শোনা যাচ্ছে, ‘বুকে আরেকটা করো(গুলি) তাহলে মারা যাবে।’ ভিডিওটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা, তবে ভিডিও সত্যতা ঠিকঠাকভাবে যাচাই করতে পারেনি চ্যানেলটি।
প্রায় একই রকম আরো একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। তাতে দেখা যায় মাটিতে ফেলে জঙ্গিদের বুকে গুলি করছে পুলিশ সদস্যরা।
একসঙ্গে ৮ সিমি সদস্যের জেল থেকে পালানো এবং তাদের হত্যা করার পেছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে আম আদমি। আর জেল থেকে পালানোর ঘটনাকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে বিষয়টির বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে কংগ্রেস।
তবে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি নন্দকুমার চৌহান এই অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ অন্য কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার দাবি, ‘জেলরক্ষীকে খুন করে ৮ জঙ্গি পালানোর থেকে পুলিশি অভিযান সফল হওয়া পর্যন্ত এক মিনিটও শান্তিতে বসতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’

ভোপালের ঘটনা সামনে আসার পর সোমবার সকালে আম আদমির সাংসদ অলকা লাম্বা টুইটারে লিখেছেন, ‘জঙ্গি মারা পড়েছে ভাল কথা। কিন্তু, একসঙ্গে ৮ জঙ্গির সংশোধনাগার থেকে পালানো এবং কয়েক ঘণ্টা পর এক জায়গায় এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনা। সরকারের কাছে ‘ব্যাপম’ ফর্মুলা ছিল।’ মধ্যপ্রদেশ বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপম কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত খোদ মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। সেই বিষয়েও খোঁচা দিয়েছেন আপ নেত্রী।
সোমবার রাতে ভোপাল সেন্ট্রাল জেলের এক নিরাপত্তারক্ষীকে খুন করে পালিয়েছিল ৮ সিমি সদস্য। পরে পুলিশের গুলিতে তাদের মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, স্রেফ আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছে তারা।
ভোপালের আইজি জানিয়েছেন, মৃত জঙ্গিদের কাছে হাতিয়ার ছিল। ঘটনাস্থল থেকে কিছু নতুন পোশাক ও শুকনো খাবার উদ্ধার হয়েছে। তবে স্থানীয় গ্রামবাসী জানিয়েছে, গুলি শুরু আগে জঙ্গিদের দিক থেকে পাথর ছোড়া হয়েছিল।
ভিডিওতে দেখা যায় পাঁচ জঙ্গি হাত উঁচু করে আত্মসমর্পণের আর্জি জানাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ খুব কাছ থেকেই তাদের গুলি করছে। রাজনীতিসহ অন্যান্য মহলে এ নিয়ে প্রশ্ন, জঙ্গিদের হাতে অস্ত্র থাকলে তারা গুলি না চালিয়ে অত্মসমর্পণ করলো কেন?

প্রশ্ন উঠছে আরো। তবে কি স্থানীয় কেউ ওই জঙ্গিদের সাহায্য করেছিল? কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক দিগ্বিজয় সিং সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এমনটাও হতে পারে ওই জঙ্গিদের কোনো বিশেষ কাজের উদ্দেশ্যে জেল থেকে পালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। খান্ডোয়ার থেকেও সিমির সদস্যরা জেল থেকে পালিয়েছে। ভোপাল থেকেও পালাল। সব কিছুর তদন্ত হোক। এই ঘটনার জেরে কোনও দাঙ্গা না হয়, সেদিকে সরকারের নজর রাখা উচিত।’
টুইটারে দিগ্বিজয় বলেছেন, ‘সিমি ও বজরং দল উভয়েই দাঙ্গা ছড়ায়। আগের এন ডি এ সরকারের কাছে এই দুটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়ে ছিলাম। সরকার সিমিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও বজরং দলকে করেনি।’
আর এক কংগ্রেস নেতা কমলনাথ বলেছেন, ‘যেহেতু সমস্ত জঙ্গি মারা পড়েছে, তাই এই বিষয়ে আর কিছু জানা সম্ভব নয়। এখন তাদের জেল থেকে পালানোর ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত হলে সব সত্য প্রকাশ পাবে।’
রাজনৈতিক বিতর্ক ব্যাপক আকার ধারণ করায় পুরো বিষয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।







