মাদক চোরাচালান মামলায় ৭৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আমিন হুদা মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আমিন হুদার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার রাখা হয়েছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবার কবির চৌধুরী জানান: আমিন হুদা বেশ কিছুদিন ধরে বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি ছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে তিনি বিএসএমএমইউ’র প্রিজন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শাখাওয়াত নামে আমিন হুদার এক স্বজন জানান: আমিন হুদা বেশ কিছুদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়বেটিস ও মানসিক রোগে ভুগিছেলেন। সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় তার হার্টে রিং পরানো হয়েছিল।
জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর গুলশানের বাড়ি থেকে আমিন হুদা ও তার সহযোগী আহসানুল হক ওরফে হাসানকে আটক করে র্যাব। ওই সময় তাদের কাছ থেকে ৩০ বোতল ফেনসিডিল, ৪৬ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গুলশানের আরেকটি বাসা থেকে ১৩৮ বোতল মদ, এক লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা এবং ইয়াবা বড়ি তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা দুটি মামলায় ২০১২ সালের ১৫ জুলাই আমিন হুদা ও আহসানুল হককে মোট ৭৯ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানার আদেশ দেন বিচারিক আদালত।
এ রায়ের বিরুদ্ধে আমিন হুদা একই বছরের ২৯ জুলাই হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্ট ৩১ জুলাই আপিল গ্রহণ করে নথি তলব ও জারিমানার আদেশ স্থগিত করেন।
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আমিন হুদা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেল শুনানি শেষে ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন।
এ জামিন আদেশের বিরুদ্ধে একই বছরের ১০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে ৫ মে তার জামিন বাতিল করেন আপিল বিভাগ।








