ছিটমহল বিনিময়ে শেষ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে স্থল সীমান্ত প্রটোকল বিনিময় হওয়ার খবর শোনার সাথে সাথে আনন্দে মেতে উঠে ছিটমহলের মানুষ। তাদের প্রত্যাশা এর মাধ্যমেই অবসান হবে ৬৮ বছরের বন্দী জীবনের।
সেই সাথে বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ছিটমহলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে আবদান রাখবে দুদেশের সরকার। এতে বদলে যাবে ছিটবাসীর জীবনমান।
বাংলাশের অভ্যান্তরের ভারতীয় ছিটমহলগুলোতে প্রতিদিনই চলছে আনন্দ মিছিল-উল্লাস। বন্দী জীবন থেকে মুক্ত হওয়ার উচ্ছাস আর আনন্দ। এ যেন তাদের কাছে স্বাধীনতা প্রাপ্তি। ছিটমহল বিনিময়ে দুই দেশের সকল আইনি বাধা একে একে কেটে যাচ্ছে। সর্বশেষ সীমান্ত বিলে স্বাক্ষর করেছে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। এখন শুধু তা বাস্তবায়নের অপেক্ষা।
তবে ছিটবাসীরা চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সফরেই ঘোষনা করুক আনুষ্ঠানিক ছিট বিনিময়ের দিনক্ষণ।
৬৮ বছরের আমাদের অবহেলিত জীবন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন ছিটমহলবাসীর জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে ছিটমহল বিনিময়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের প্রত্যাশা ছিটমহলের উন্নয়নের জন্য একটি উন্নয়ন প্যাকেজ যেনো তিনি দিয়ে যান। আর ছিটমহলের যারা শিক্ষিত আছেন তাদের জন্য একটি সুব্যবস্থা করে দেয়ার আহবান জানান তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি।
৬৮ বছর বন্দী জীবন পাড় করা উন্নয়ন ও সুবিধা বঞ্চিত ছিটবাসীর দাবি ছিট বিনিময়ের সাথে ছিটমহলগুলো বিশেষ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ভারত সরকারও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। আর তাতে স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ পেতে পারবে ছিটবাসীরা।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ৬৮ বছর ধরে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিটমহলের মানুষ। আমাদের বিনয়ের সাথে নিবেদন হলো যে এই ছিটমহলে উন্নয়নের ধারাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা।
শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয় মন্তব্য করে গোলাম মোস্তফা বলেন, ছিটমহলগুলোতে কর্মমূখি শিক্ষা থেকে শুরু করে সকল শিক্ষার জন্য যেনো নতুন একটি করে প্যাকেজ প্রোগ্রাম ঘোষণা করে দেন। যেটি দিয়ে নারী-পুরুষ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করে যেনো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সভাপতি ময়নুল হক বলেন, ভারতের নাগরিক হিসেবে ৬৮ বছর ধরে আমরা নাগরিকের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোস্তফা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, ভারতের ৫১টি ছিটমহলের জন্য মোদি যেমন উন্নয়নের প্যাকেজ দিয়েছেন তেমনি বাংলাদেশের ১১১টি ছিটমহলের মানুষগুলিকে হস্তান্তর করার আগেই যেনো একটা উন্নয়ন প্যাকেজ দেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীর বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে বদলে যাবে ছিটবাসীর জীবন। ৬৮ বছরের বন্দী জীবনের অবসান ঘটবে দু’দেশের প্রায় ৫২ হাজার মানুষের।






