পঁয়ষট্টি বছর ধরে তালেয়া রেহমানের সঙ্গে তার পরিচয়, ৬০ বছর ধরে সংসার। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তালেয়া লন্ডনের ম্যকমিলান ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বৃহস্পতিবার তার পাশে থাকার জন্য লন্ডন যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জটিলতায় যেতে পারেননি স্বামী শফিক রেহমান।
হঠাৎ বাধা প্রসঙ্গে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘ভালো নেই, একদম ভালো নেই। আমার ৬০ বছরের বিবাহিত অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে যেতে পারলাম না, মন খুব খারাপ।’
তবে ইমিগ্রেশন পুলিশের ‘সমন্বয়হীনতার কারণে’ বৃহস্পতিবার যেতে না পারলেও শুক্রবার একই সময়ের ফ্লাইটে লন্ডন যাচ্ছেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শফিক রেহমান বলেন, ইমিগ্রেশন পুলিশ থেকে বেলা ১টার দিকে ফোন দিয়ে আমাকে জানানো হয়েছে আপনি চাইলে যেকোন সময় যেতে পারেন।
‘আমি তাদের বলেছি এখনতো টিকেট পাওয়া যাবে না। তাই শুক্রবার একই ফ্লাইটে আমি যাবো।’
বৃহস্পতিবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত ঝামেলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কাগজপত্র দেখানোর পরও ইমিগ্রেশন পুলিশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে আমার পাসপোর্ট নিয়ে যায়। পরে পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে বলে আপনাকে আমরা বেলা একটার দিকে ফোন করে জানাবে। ততক্ষণে আমার ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ায় আমি বাসায় চলে আসি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র মামলার আসামী শফিক রেহমান কোন ধরনের ‘আইনি বাধা না থাকার পরও’ যেতে না পারার জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশের সমন্বহীনতাকে দায়ী করেছেন।
‘আদালতের রায় যেহেতু পেয়েছি তাই আমি আশা করেছিলাম এ ব্যাপারে ইমিগ্রেশন পুলিশও নিশ্চয়ই জেনে থাকবে। কিন্তু সেখানে দেখলাম সমন্বয়ের অভাব,’ বলেন সিনিয়র এ সাংবাদিক।’
বিদেশযাত্রায় কোন ধরনের আইনি বাধা না থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ মাসের ৯ তারিখে আমি হাইকোর্টের, ১৬ তারিখ সিএমএম কোর্ট এবং ১৯ তারিখে ডিবি পুলিশের আদেশ পেয়েছি। তারা সবাই বলেছে, আপনার যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোন বাধা নেই। তারা আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতাও করেছে।’
ভবিষ্যতে আর কোন নাগরিক বিপদের মুহূর্তে যেন ‘এমন সমস্যায়’ না পড়ে সেজন্য প্রতিটি বাহিনীর সঙ্গে ইমিগ্রেশন পুলিশের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করেন শফিক রেহমান।
বিদেশযাত্রায় এভাবে হঠাৎ থেমে যাওয়া তার জন্য অবশ্য এটাই প্রথম নয়। তত্ত্বাবধায়ক আমলে তিনি ‘যায়যায় দিন’ পত্রিকা বন্ধ করে বিদেশে চলে যেতে চাইলে পত্রিকাটির কর্মীরা বিমানবন্দরে ভীড় করে তার যাত্রা আটকে দেন।
আর এইচ এম এরশাদের আমলে দীর্ঘদিন তিনি দেশে আসতে পারেননি।







