একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ৫ জানুয়ারির পাঁয়তারা যেনো ফিরে না আসে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
বৃহস্পতিবার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে সকাল সাড়ে দশ’টায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এক বৈঠকের শুরুতে এ কথা বলেন তিনি।
সেসময় বিনা কারণে কাউকে গ্রেপ্তার না করারও নির্দেশ দেন সিইসি।
পাশাপাশি সম্প্রতি ঘটা ঘটনাগুলো তৃতীয় কোনো শক্তির উত্থানের আলামত কিনা তাও খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন নুরুল হুদা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন: আমরা কিন্তু একেবারেই আশঙ্কাগুলো (নাশকতার, তাণ্ডব) অবহেলা করতে পারি না। এবার প্রতীক বরাদ্দের পরদিনই যে ঘটনা। সেঘটনা যত তুচ্ছ কারণেই ঘটুক না কেন, দুটি জীবন চলে গেলো। কিন্তু কেন গেলো জীবন। এখানে ওখানে ভাংচুর, প্রতিহত করার ঘটনা। এগুলো কি শুধুই সামান্য রাজনৈতিক কারণ? নাকি ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন প্রতিহত করার মতো ভয়াবহতা সৃষ্টির প্রস্তুতি ও পাঁয়তারা চলছে কিনা তা দেখতে হবে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
একটা ঘটনা ঘটে যাবার পর দোষ যার উপরই চাপানোর চেষ্টা করা হোক না কেনো আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না ঘটে সেজন্য হালকা করে দেখার কিছু নেই। এসব ঘটনায় একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দেবার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদেরও সতর্ক অবস্থান নেবার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্র আছে কিনা তাও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে। নির্বাচন নিয়ে যখন মানুষের মধ্যে স্বত:স্ফূর্তভাব ও পরিবেশ তৈরি হয়েছে তখন কোনো হামলার ঘটনা বিচলিত করার মতো ঘটনাগুলো সামান্য বলে মনে করার মতো কারণ নেই।
২০১৪ সালের নির্বাচনের অবস্থা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না জানিয়ে সিইসি বলেন: ওই নির্বাচনে ভয়ঙ্কর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। ওই নির্বাচনের অবস্থার আলোকে বুঝে এবারের নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রুপরেখা তৈরি ও কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। যাতে করে এবার ভয়ঙ্কর অবস্থা, তাণ্ডব না ঘটে।
তখন মাঠে সব বাহিনী ছিল সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র্যাব। বিজিবিও ছিল। তবুও আমরা তখন কি দেখেছি! তখন তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ সদস্য, প্রিজাইডিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেট নিহত হয়েছে। শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে।
তখন সেটার কি প্রেক্ষিত ছিল, কেন আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি তা আলোচনা করার প্রয়োজন আজ আমি মনে করছি না। তবে সেটা আমাদের মনে রাখতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না। সেই অবস্থা থেকে কি করে আমাদের কিভাবে উত্তরণ করা যায়, সে রকম কোনোরকম যেন পাঁয়তারা না হয়, আবার যেন সেই রকম পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি না হয়, ওই অবস্থার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে, সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিইসির সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশগ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ভিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এছাড়াও ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত আছে।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সাধারণ এলাকার ভোটকেন্দ্রের পাহারায় একজন পুলিশসহ ১৪ জন সদস্য, মেট্রোপলিটন এলাকার ভোটকেন্দ্রে তিন জন পুলিশসহ ১৫ জন এবং দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকার ভোটকেন্দ্রে দু’জন পুলিশসহ ১৪ জন সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
এ নির্বাচনে মোট ১০ কোটি ৪২ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে। এবার ভোটের জন্য বরাদ্দ ৭০০ কোটি টাকার সিংহভাগই যাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়।
এসব বাহিনী ৩০০ সংসদীয় আসনের ৪০ হাজার ১৮০টি কেন্দ্র পাহারা এবং ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩ জন ভোটারের নির্বিঘ্নে ভোটদানে সহায়তা দিতে কাজ করবে।










