৫ ডিসেম্বর ছিলো আযম বাবুর ৫০তম জন্ম বার্ষিকী। এ উপলক্ষে ঢাকার উত্তরার “ফায়ার অন আইস” মিউজিক রেস্টুরেন্টে বসেছিলো বাংলা গানের এক মিলন মেলা। কে উপস্থিত ছিলেন না সেখানে!
ছিলেন সৈয়দ আব্দুল হাদি, খুরশিদ আলম, এন্ড্রু কিশোর, কুমার বিশ্বজিৎ, শুভ্রদেব, পার্থ বড়ুয়া, হাসান, বিপ্লব, টিপু, মেহরিন, রিজিয়া পারভিন, ফুয়াদ নাসের বাবু ছাড়াও আরও অনেকে। এদের উপস্থিতিতে ‘দ্য গ্রেট আযম বাবু’ সম্মানে ভূষিত করে ক্রেস্ট প্রদান করা হয় তাকে।
জমকালো ওই আয়োজন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পেরিয়েও যেন শেষ হতে চায় না। মজার বিষয় ছিলো কাউকেই অনুরোধ করতে হয়নি গান গাওয়ার জন্য। শিল্পীরা নিজ দায়িত্বে একের পর এক মঞ্চে উঠে গাইতে থাকেন বাংলার জনপ্রিয় সব গান। আর স্মৃতির অন্তরাত্মা থেকে বলতে থাকেন পুরনো সব প্রিয় গল্প।
একসময় এদেশের মানুষের বিনোদনের চাহিদা মেটানোর একমাত্র পথ ছিল রেডিও কিংবা টেলিভিশন। ঠিক তারপর শুরু হল ক্যাসেট এর যুগ। আর এ যুগের শুরুতেই শব্দ প্রকৌশলী ‘আযম বাবু’ শব্দজগতে পথ চলা শুরু করেন বড় ভাই পান্না আযম এর হাত ধরে। সেই থেকে আজ অবধি থেমে নেই তিনি কখনও।
বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের প্রথম প্রজন্ম থেকে শুরু করে এমন কোন শিল্পী বা ব্যান্ড নেই যিনি বা যারা শব্দ প্রকৌশলী আযম বাবু’র হাতের ছোঁয়া না পেয়ে বড় হয়েছেন। এখন তিনি বেসরকারি টেলিভিশন “চ্যানেল-আই” এর প্রধান শব্দ প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির আসনে ছিলেন শব্দ প্রকৌশলী পান্না আজম। গান ও শব্দ থেকে বছর কয়েকের বিরতির পর এ দিনেই তাকে আবারও গানের মাঠে ফিরে পাওয়ায় অন্য আরেক মাত্রার আনন্দ বয়ে যায় উপস্থিত সব শিল্পীর মাঝে।
শিল্পী পার্থ বড়ুয়া বলেন, চট্রগ্রাম বসে যখন জেনেছি আমাদের ‘দ্য গ্রেট আযম বাবু’র ৫০তম জন্মবার্ষিকী আসল উপলক্ষ, তখন আমি আর কিছু ভাবতে চাইনি। সোজাসুজি রওনা হলাম চট্টগ্রাম টু ঢাকার পরবর্তী ফ্লাইটের টিকিট পেতে। টিকিট পেলাম চলেও এলাম।
এন্ড্রু কিশোর বলেন, বাংলা গান ও শব্দকে আজকের এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে যিনি, তিনিই পারেন আমাদের গান সামনের আরও শত বছর দূরের কোনো সীমানায় পৌঁছে দিতে, তিনি হচ্ছেন আমাদের ‘দ্য গ্রেট আযম বাবু’। আমি বিশ্বাস রাখি তিনি তা করবেনও।
কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, আমার গানের শুরু থেকে ৩০-৩৫ বছর পুরোটাই কেটেছে ‘দ্য গ্রেট আযম বাবু’ ও পান্না ভাইয়ের হাতের মাঝে এবং আমার শেষও হবে এখানেই। আমি ফুরিয়ে যাবো, তবে চলতে থাকবে শব্দ ও গানে আমাদের প্রিয় ‘দ্য গ্রেট আযম বাবু’।
টিপু বলেন, আমার শুরু বন্ধু আযম বাবুর হাত ধরে। আর রিজিয়া পারভিন বলেন, আমি ‘দ্য গ্রেট আযম বাবু’ ভাইয়ের সাথে প্রস্তুত যে কোনো যুদ্ধ জয়ে।
ফুয়াদ নাসের, সৈয়দ আব্দুল হাদি, খুরশিদ আলম, এন্ড্রু কিশোর সবার মতামতে সিদ্ধান্ত হয়, বাংলা গান ও শব্দের ইতিহাস নিয়ে একটি বই বের করা হবে। এর সার্বিক সহায়তায় থাকবে চ্যানেল আই।
এমন সিদ্ধান্তে সম্মতি জানান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।






