একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ২৫ জামায়াত নেতার ‘প্রার্থিতা বাতিলের আইনগত কোনো সুযোগ নেই’ মর্মে ইসির সিদ্ধান্ত সম্বলিত চিঠি কেন অবৈধ ও বেআইনি হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আজকের এই রুল জারির ফলে এই ২৫ প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবেন এবং তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন ইসি ও প্রার্থীদের আইনজীবীরা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যে ২১ জন জামায়াত নেতা অংশ নিচ্ছেন তারা হলেন:-
ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম খান, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পারোয়ার, পাবনা-৩ আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৫ আসনে ইকবাল হোসাইন, যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মো. শাহাদাত হোসাইন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ আসনে আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে শামীম সাঈদী, নীলফামারী-২ আসনে মো. মনিরুজ্জামান, ঝিনাইদহ-৩ মতিয়ার রহমান, বাগেরহাট-৩ আসনে ওয়াদুল শেখ, বাগেরহাট-৪ আসনে আব্দুল আলীম ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনে শামসুল ইসলাম।
আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে যে ৪ জন জামায়াত নেতা এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারা হলেন:-
কক্সাবাজার-২ আসনের হামিদুর রহমান আযাদ, চাাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ নূরুল ইসলাম বুলবুল, চট্টগ্রাম-১৬ জহিরুল ইসলাম ও পাবনা-১ ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান।
এর আগে এই ২৫ জামায়াত নেতার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, দলটির সমাজ কল্যাণ সচিব মো. আলী হোসেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এর সভাপতি হুমায়ুন কবির ও সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মো. এমদাদুল হক।
রিট করার পর ওইদিন রাতেই চার রিটকারি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ২৫ জামায়াত নেতার প্রার্থিতা বাতিলের পদক্ষেপ নিতে ইসিতে আবেদন করেন।
সে আবেদনে বলা হয়: ইদানিং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জন প্রার্থী তাদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতীক বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে নমিনেশন পেপার জমা দেন। যা নির্বাচন কমিশনে গৃহীত হয়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন হাইকোর্টের রায়ে বাতিল হওয়ার পরেও তাদের ২৫ জন প্রার্থীকে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতীক বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া হয়েছে, তা আইনগত বৈধ নয়। ইসিতে জমা দেওয়া চার রিটকারির ওই আবেদনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২৫ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার পদক্ষেপ নিতে আর্জি জানানো হয়।
এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৫ জামায়াত নেতার একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানি নিয়ে আদেশ দিয়েছিলেন।
আদেশে জামায়াত ইসলামীর এই ২৫ নেতার প্রার্থিতা বাতিলে ইসিতে করা রিটকারিদের আবেদন তিন দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের এই আদেশের পর নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. সেলিম মিয়া গত ২৪ ডিসেম্বর একটি চিঠিতে রিট আবেদনকারীদের জানিয়েছিলেন, ওই ২৫ জনের প্রার্থিতা বাতিলের আইনগত কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করে আবেদনটি নামঞ্জুর করেছে।
এরপর নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিবের দেওয়া ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবার একটি রিট আবেদন করেন সেই ৪ রিটকারি।
সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। প্রার্থীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আর রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ইয়াসীন খান।








