ঝড়-বৃষ্টি বা প্রখর রোদ যে অবস্থাই থাক না কেন, একই জায়গায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করে যেতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অন্যান্য কর্মজীবীদের কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট থাকলেও তার কোন নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নেই। ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয় মাঝে মাঝে। সাপ্তাহিক কোন ছুটি নেই। উৎসব-পার্বন এবং অসুস্থতাসহ সব মিলে বছরে ছুটি মাত্র ২০ দিন। গত ২১ বছর যাবৎ চাকরি করছেন। এই ২১ বছরে মাত্র তিনটি ঈদ তিনি পরিবারের সঙ্গে করতে পেরেছেন। বাকি ৪০টি ঈদই কেটেছে সড়কে দায়িত্ব পালন করে।
শনিবার ঈদুল আযহার প্রথম দিন দুপুরে বিজয় সরণীতে দায়িত্ব পালন করতে করতে চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে নিজের এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য রেজাউল ইসলাম।
ঈদের দিন বলে চাপ কিছুটা কম থাকলেও একেবারে ফাঁকা নয় রাজধানীর সড়কগুলো। নগর পরিবহন, দুরপাল্লার বাস এবং ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করায় সড়কগুলো মোটামুটি ব্যস্ত।বিজয় সরণীর মোড়ে দাঁড়িয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের এ সদস্য।
তার বাড়ি ঢাকার আশুলিয়ায়। সকালে ঈদের প্রথম জামায়াতে অংশ নিয়ে আশুলিয়া থেকে দ্রুতই চলে এসেছেন দায়িত্ব পালন করতে। বাড়িতে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। দায়িত্বের চাপ এতবেশি যে, পরিবারকে দেওয়ার মত সময় তার কমই মেলে। উৎসব পার্বনেও পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ খুবই কম পান তিনি।
রেজাউল ইসলাম বলেন: আমার ডিউটির কোন টাইম-টেবিল নেই। প্রতিদিন ১২-১৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। সব মিলে বছরে মাত্র ২০ দিন ছুটি পাই। আবহাওয়া যত খারাপই থাক না কেন এক জায়গায় দাঁড়িয়েই দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়।
অন্য সময়ে কোন রকম মানিয়ে নিতে পারলেও বিশেষ করে ঈদের দিনে পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে থাকতে খুব খারাপ লাগে বলে জানালেন রেজাউল করিম।
কাজের এত চাপ তারপরেও যেন ক্লান্তি নেই তার চোখে-মুখে। নিজের জীবনের শখ আহ্লাদ, ভালো লাগা মন্দ লাগাকে ভুলে নগরবাসীর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হাসিমুখেই দায়িত্ব পালন করে চলেছেন রেজাউল।








