অন্তত ২১ জনের মৃত্যু ও অর্ধশতাধিক আহত ও কয়েক ঘণ্টার গুলির লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে জিম্মি নাটকের অবসান হয়েছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। এই মুহূর্তে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর সেনাবাহিনীর দখলে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও পুরো শহরে জারি রয়েছে কারফিউ।
নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, চার জঙ্গি সহ ২১ জন নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩ হাজার ছাত্রছাত্রীকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান।
খাইবার পাখতুন খান রাজ্যের ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়। এটি পেশোয়ার থেকে ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) দূরে চরসাদ্দা এলাকায় অবস্থিত। হামলার আগে বাচা খানের জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছিলো।
খাইবার পাখতুন খানের রাজ্যের সংসদ সদস্য জানান, হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল পিটিভিকে জেলা পুলিশ সুপার জানায়, তিনজন বন্দুকধারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেই গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। পরে জানা যায়, হামলাকারীরা সংখ্যায় ছিলো ৮-১০ জন। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হামলাকারীরা সংখ্যায় ১৫ জন।
মঙ্গলবারই পেশোয়ারে এক জঙ্গি হামলায় সাংবাদিক সহ ১০ জন নিহত হয়। আর গত বছর এই পেশোয়ারেই জঙ্গি হামলায় একটি স্কুলের ১৪০ জন ছাত্রছাত্রী প্রাণ হারায়।
হামলা কড়া নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। সৌদি আরব ও ইরান সফর শেষে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি এখন সুইজারল্যান্ডের দাভোসে রয়েছেন। হামলার নিন্দা করেছেন খাইবার পাখতুন খানের ক্ষমতাসীন দল তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতা ইমরান খান।
বর্বর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়েছে ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাস।






