ফুটবলের ইতিহাসে এশিয়াতে একবারই অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপ। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ হয়েছিল জাপান ও সাউথ কোরিয়া দুই দেশ মিলে। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমোদন পায় কাতার। সেটা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক এখনও অব্যাহত।
এবার ফুটবলে পিছিয়ে থাকা এই মহাদেশের একটি দেশই এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চাচ্ছে। সেটি হতে পারে ২০৩০ বিশ্বকাপ। দেশটির নাম চীন।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফুটবলে বড়সড় সংস্কার শুরু করেছে দেশটি। ঘরোয়া লিগে দেদার অর্থ খরচের সঙ্গে টাকা ঢালছে বিদেশের বিভিন্ন ক্লাবে। সেই সঙ্গে চীনা বড় কোম্পানিগুলো ফিফার সঙ্গে বড় অংকের চুক্তি করে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে যাচ্ছে।
২০৩০ বিশ্বকাপের হোস্ট নির্ধারণের আগে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানাবে চীন। এই ব্যাপারে আইনগত কাগজপত্র প্রকাশিত হবে আগামী বুধবার ফিফার বাহরাইন কংগ্রেসে।
ফিফার গভর্নিং বডি বলছে, ‘পরিস্থিতি বুঝে যদি প্রয়োজন হয়’ তাহলে হোস্টিং হিসেবে যে কাউকে অনুমোদন দেয়া হতে পারে।
কাতারের পর ২০৩০ বিশ্বকাপে বিড হওয়ার আগে আয়োজক দেশের অবকাঠামো নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হবে। সে হিসেবে সাউথ আমেরিকা এই বিতর্কে এগিয়ে থাকবে। আর এই তালিকায় এগিয়ে থাকবে ১৯৩০ সালে আসল বিশ্বকাপের প্রথম আসর আয়োজন করা উরুগুয়ে।
বিশ্বকাপে যাক আর না যাক, খেলার অবস্থা যাই হোক ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনে ফিফাকে টার্গেট করেছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান। আবাসন ও সিনেমা জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান ‘দালিয়ান ওয়ানদা’ গ্রুপ যারা ২০৩০ পর্যন্ত ফিফার সঙ্গে বড় অঙ্কের চুক্তি করেছে।
গত বছরের মার্চে ওয়ানদার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ফিফার অংশীদার হিসাবে বিশ্বকাপের মতো বড় ফুটবল ইভেন্টের হোস্টিংয়ের জন্য ওয়ানদা অনেক ভূমিকা পালন করবে।
রাশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। এজন্য ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য দুটি ইউরোপীয়ান দেশের আহ্বান খারিজ করে দিয়েছে ফিফা। পরিবর্তে নর্থ আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বেশ ফেভারিট হয়ে গেছে। এখন ১১মে বাহরাইন কংগ্রেসে এই বিষয়ের ফয়সালা করতে চায় সংস্থাটি।
নীতিগতভাবে এই ইভেন্টটি পূর্ববর্তী দুটি মহাদেশের (ইউরোপ ও সাউথ আমেরিকা, যেহেতু আগের বিশ্বকাপ ব্রাজিলে হয়েছে) আয়োজনকারী কনফেডারেশনের সদস্যকে দেয়া হবে না। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ফিফা প্রযোজ্য রেগুলেশন অনুযায়ী অন্যকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আর এই অন্যকোনটি হতে পারে বর্তমান অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ার চীন।
সূত্র: এমএসএন স্পোর্টস







