সামাজিক মাধ্যমের অন্যতম জনপ্রিয় ফেসবুকের জন্য ২০১৭ সাল ছিল বেশ চ্যালেঞ্জের। ভূয়া নিউজ ছড়ানোর জন্য বদনাম, প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি নিয়ে ব্যবহারকারীদের আস্থার অভাব, দীর্ঘসময় সার্ভার ডাউন হওয়াসহ মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ান বিজ্ঞাপন বিষয়ে কেলেঙ্কারির জন্য নানা জটিলতায় ছিল মার্ক জুকারবার্গের প্রতিষ্ঠান।
সারাবছর ধরেই তারা ব্যবহারকারীদের কাছে নানা কারণে ক্ষমা আর দু:খ প্রকাশ করে এসেছে।
রাশান অ্যাডের জন্য দু:খ প্রকাশের পাশাপাশি এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের ‘শুভ সকাল’ লেখাকে ভুল অনুবাদ করে হিব্রু ভাষায় ‘আক্রমন করো’ প্রকাশ করেছিল, যা ওই ফিলিস্তিনিকে জেলে পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল। এক কালো চামড়ার মানবাধিকার কর্মীর একাউন্ট বন্ধ করা ও এলজিবিটি কমিউনিটির পোস্ট মুছে বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে পড়েছিল ফেসবুক।
বিজ্ঞাপন নিয়ে ভূয়া নিউজ ছড়ানোর দায়ে ফেসবুকের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। এছাড়া ভূয়া নিউজ প্রতিরোধে যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, তার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মার্ক জুকারবার্গকে দু:খ ভরা মনে বলতে শোনা গেছে, ‘আমাদের প্রযুক্তিকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কখনও কখনও মানুষকে একত্রিত করার পরিবর্তে বিভক্ত করেছে।’
এছাড়া ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাকালীন কিছু সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ফেসবুকের ব্যবহারকারী বিশেষ করে শিশুদের মানসিক সমস্যার জন্য অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারকে দায়ী করেছেন। মানুষের প্রাকৃতিক সামাজিক গুণাবলী নষ্টের জন্যও তারা ফেসবুককে দায়ী করে বিভিন্ন সেমিনার ও প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন। যা নিয়ে বেশিরভাগ সময়ই ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে নীরব থাকতে দেখা গেছে।
এতো কিছুর পরও ২০১৭ সালের শেষের দিকের তথ্যমতে প্রতিদিন ১.৩৭ বিলিয়ন ব্যবহারকারী প্রতিদিন ফেসবুক ব্যবহার করছে। ইন্ট্রাগ্রাম ও হোয়াসঅ্যাপকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে ফেসবুকের সামগ্রিক অবস্থা অনেক শক্তিশালী হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন টেক-এআই কোম্পানি ও ব্র্যান্ডকে নিজেদের আয়ত্বে নিয়েছে ফেসবুক। ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় ৫০% বেশি বিজ্ঞাপন পেয়েছে এবং শুধুমাত্র বছরে শেষ ৩ মাসেই ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করেছে।







