সদ্য জেএসসি পাশ করা কিশোরী ধানসিঁড়ি নদীর জেলা বরিশালের সাদিয়া ইসলাম তোয়া। বিকাল ফুরিয়ে আসার আগে আগে ঘোষণা হল ২০১৭ সালের স্বর্ণ কিশোরী হিসেবে তার নাম। তখন ধানমন্ডি সুলতানা কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্সে হর্ষধ্বনি আর করতালির প্রবল ফোয়ারা। বিকাল তখন স্বর্ণ আলোয় বিচ্ছুরিত হয় কৈশোরের ইচ্ছা শক্তির ঝলকে।
স্বর্ণ কিশোরীর ৪র্থ কনভেনশনে রানার আপ হয়েছে সিলেটের জান্নাতুল ফেরদৌস। এছাড়া আরো ৬ জন স্বর্ণ কিশোরী মনোনীত হয় তারা ময়মিনসিংহের ফাতিমা সাবাহ, রাজশাহীর সাদিয়া ইসলাম, ঢাকার সানজিদা হক, রংপুরের নাফিসা আলী, খুলনার সাদিয়া ইসলাম এবং চট্টগ্রামের সীমা আক্তার। বিজয়ীদের শিক্ষাবৃত্তি এবং ট্যাব উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিটি বিভাগের ৮ জন করে ৬৪ জনকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়।

কনভেনশনের আয়োজক চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর যখন সেরা ঘোষণার বেশ আগে বলেন, ‘তোমাদের যা ইচ্ছা সেটাই তোমাদের শক্তি তোমাদের যা ইচ্ছা হবে সেটাই করবে। তবে নিজের কাছে সৎ থেকে যদি সেটা কর তবে দেখবে সেটি হয়ে যাবে। কারণ সব কিছুর সুইচ তোমাদের হাতে ।’
স্বর্ণ কিশোরী তোয়া যখন শিরোপা অর্জন করে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমি কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত এবং বাল্য বিবাহ রোধে নিজেকে নিয়োজিত রাখব এবং আমার নিজের গড়ে ওঠায় মনোযোগী থাকব তখন বোঝা যায় আসলেই এসব স্বর্ণ কিশোরীরা তাদের জীবনের সুইচ নিজেদের হাতেই রাখবে।
স্বর্ণ কিশরোী নেটওয়ার্ক, গেইন (গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নেশন) ও চ্যানেল আইয়ের আয়োজনের কনভেনশনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম কিশোরীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মনের ভেতরে যা আছে তা সাহস করে বলতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের তথ্য জানার অধিকার আছে। তোমরা আমাদের আগামী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. রেজাউল করিম কাজল বলেন, আজকের স্বর্ণ কিশরোীরা আগামীর নেতৃত্ব দেবে। স্বর্ণকিশোরীর কাঁধে উত্তরীয় পরিয়ে এবং পুরস্কার তুলে দিয়ে লে.জেনারেল সোহরাওয়ার্দী বলেন, এই কিশোরীরা বাংলাদেশকে ২০৪২ এ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে নেতৃত্ব দেবে। গড়ে উঠবে তাদের সুশৃঙ্খল বাহিনী।
সকাল থেকে মাঠ ভর্তি কিশোরীর দল। দুদিন ধরে আসছে তারা। কিন্তু কোন ক্লান্তি নেই। এমনই প্রাণোচ্ছল তারা। কমপ্লেক্সের বাইরে হাজারো অভিভাবকের ভিড়। এমনই মুখরিত আবহে শেষ হয়েছে কনভেনশন। গানের তালে তালে নেচে উঠেছে কিশোরীর দল। যখন ফরিদুর রেজা সাগরের কথায় শেখ সাদী খানের সুরে বেঁজে ওঠে সেদিনও আকাশে ছিল সূর্য তারা চাঁদ/ ছিলনা এই মাটিতে স্বাধীনতার স্বাদ..বেঁজে ওঠে তার কন্ঠ/ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।/ সেই থেকে এলো স্বাধীনতা।’ গানের কথা আর সুরে এবং বঙ্গবন্ধুর ভাষণে মাতোয়ারা হয় কিশোরীরা। 
১০ দফা ঢাকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ৪র্থ স্বর্ণ কিশোরী জাতীয় কনভেনশন। সারা দেশের ৪৫৫৫টি ইউনিয়নের ১ জন করে মোট ৪৫৫৫ কিশোরীর উপস্থিতিতে শপথে ঘোষিত হয় উচ্চারণ ‘কৈশোর পুষ্টি নিশ্চিত করি, কৈশোর বান্ধব বাংলাদেশ গড়ি।’
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা এবং উপস্থাপনা করেন ফারজানা ব্রাউনিয়া। উপস্থাপনায় আরো ছিলেন অপু মাহফুজ।
ছবি: ওবায়দুল হক তুহিন








